সর্বশেষ

» ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কবিতা ।। কিপ্টা জামাই ।। মোঃ ফারুক ইসলাম

প্রকাশিত: 25. June. 2020 | Thursday

কিপ্টা জামাই
মোঃ ফারুক ইসলাম

ময়মুরুব্বির কথা মতো বাজান দিছে বিয়া,
এমন সংসার কেউ করতো না কিপ্টা বেডা নিয়া।
এমন কিপ্টা লইয়া গো বইন আছি বড়োই জ্বালায়,
এই জামাইয়ে দিন যাইতোনা কইছিন আমার খালায়।

হুনুইন ভাবী- আন্নের দেওরে কত্তো কাণ্ড করে
হচা-রচা বাজার কইরা লইয়া আইয়ে ঘরে।
হাঁটে গিয়া ঘুইরা ঘুইরা খুঁজবো খালি সস্তা
বেশির ভাগ’ই নষ্ট অইলেও আনবো ভইরা বস্তা।

হুড়হা কট্টি বাইগন আনছে সব’ডি গেলে পইচ্ছা,
আনছে লগে গুঁড়া মাছও, জীবন’ডা শেষ কইচ্ছা!
কি ঢ়ংগের যে সাবান আনছে উডে না বইন ফেনা,
ঈদের একটা কাহড় আনছে ধুইতেই অইছে তেনা!

পঞ্চাশ টেহার দামী ছাতি দিছিন বড়ো জেডায়
চান্দী পাডে চৈত্রের রোদে দেয়’না মাথায় বেডায়
পায়ের জুতা আতো লইয়া যাইবো সদা আইট্টা,
ধূল-বালিতে ঠ্যাং’ডি গেছে বাঙ্গির মতো ফাইট্টা!

কইছি আনতো পান পাতা চুন লইয়া আইছে দই!
আন্নে ছাড়া দুঃখের কথা কার কাছে বইন কই?
খাওনেওলা বংশ আমরা এঁরা কিপ্টের জাত,
বাপের বাড়ি আছর পরেই খাইতাম গরম ভাত।

পুকুর ভর্তি রুই কাতলে, কথা নয় গো মিছা,
পেঁয়াজ কাইটা রান্না কইরা খাইতাম শুধু ইছা।
দুই, তিন বছর গেলেই বাজান দিতো নতুন জামা,
বিয়ের হরে দু’জোড় কাহড় দিছেও আমার মামা।

কাইজ্জা তবু করি না বইন কই না কোন মন্দ,
অন্য বেডি অইলে কিন্তু লাইগা থাকতো দ্বন্দ্ব।
এই বেডার ঘর করতাম না বইন মানুষ কয়দিন বাঁচে?
আট নয় বছর দেইখা লই আর কপালে যাই আছে।।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৬৩ বার

[hupso]
Shares