সর্বশেষ

» নবকণ্ঠ সাহিত্য আসর আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা-৩৭ এর ফলাফল প্রকাশ

প্রকাশিত: 12. February. 2021 | Friday

স্মরণে একুশ
তৈয়েবুর রহমান তাকিব

ভাষার তরে যুদ্ধ করে
ঝরলো কত প্রাণ
বহু ত্যাগে পেলাম মোরা
স্বাধীনতার ঘ্রাণ৷

একুশ আসলে বছর ঘুরে
তখন মনে হয়
বহু ত্যাগের বিনিময়ে
পাওয়া মোদের জয়৷

বিশ্ব বুকে বাংলা ভাষার
আছে অনেক মান
মোদের মুখের বাংলা ভাষা
শহীদ দেরি দান৷

একুশ এসে তাদের কথা
মনে করে যায়
স্মৃতির মাঝে ওই শহীদের
দেখতে আজও পায়৷

সারা জীবন করবো স্মরণ
রাখবো মনে ভাই
রক্তে কেনা বাংলা মোদের
স্মরণ করি তাই৷

বাংলা মধুর ভাষা
জাহাঙ্গীর চৌধুরী

বাংলা মোদের মাতৃভাষা

জীবন দিয়ে পাই
মনের সুখে আমরা সবে
বাংলা বলে যাই।

বাংলায় মোদের লেখাপড়া
বাংলাতে গান গাই
বাংলা ভাষা মধুর ভাষা
কঠিন কিছু নাই।

বাংলা হলো বিশ্বভাষা
বিশ্ব দিলো সায়
তারাও আজ বাংলা শিখে
অতি মজা পায়।

বাংলায় চলে স্বাধীন দেশের
স্বাধীন ভাষার চাষ
কোনো কালে কোনো ভাবে
হবে নাকো নাশ।

এসো সবাই মিলে মিশে
ভাষার গৌরব লই
সারা বিশ্বে দেবো এখন
বাংলা ভাষার বই।

বসন্ত এসে গেছে
সফিউল ইসলাম

জনজীবনে প্রকৃতির নেই বিরুপ বিকল্প
প্রকৃতি পুরুষ মিলে রচে সুখের সংকল্প।
বুঝি বসন্ত এসে গেছে শীতের অবসান
ঐ কুজ্ঞে জেগেছে কোকিলের কুহূতান।
দখিনা বায়ু দোলায়িত খোলা জানালায়
তপ্তরোদে স্নিগ্ধ বাতাস দেহমনে জুড়ায়।
কানন মাঝে কুসুম কুঁড়ি বিকশিত ক্রমে
অলি পতঙ্গ কুঞ্জে কুঞ্জে মধু পানে ভ্রমে।
কৃষ্ণচূড়ার রঙে যেন শ্রীবৃন্দাবনের দোল
শিমুল শিউলি বর্ণে রাধাকৃষ্ণের হিন্দোল।
শাখী হারায়ে পাতা অঝোরে দাঁড়িয়ে রয়
বসন্ত ছোঁয়ায় তরুশাখে জাগে কিশলয়।
সবুজ শস্যে মেঘহারা রবির স্বর্ণরশ্মিছটা
মৃদুমন্দ বায়ুতে মর্মর ধ্বনি মুগ্ধ জীবনটা।
প্রকৃতির মাঝে সুপ্ত অনাবিল আনন্দধারা
বৈচিত্র্যের রূপ রঙ রসে মানব আত্মহারা।
বসন্ত ফল্গুধারায় প্রকৃতি লাবণ্যে মোহিত
বৈচিত্র্য স্বাদে মানবজীবন হরষে বিস্মিত।
ঋতুচক্র বাস্তব জীবনে চূড়ান্ত প্রতিফলন
বসন্ত উৎসব মানব মনে জাগায় সঞ্জীবন।

ক্ষমা করো
এম. এ. শিকদার

জীবন নদীর তীরে বসে
ভেবে দেখি একা
নিত্যদিনে বাড়ছে সবই
কমছে আয়ুর রেখা।

চলে যেতে হয় যে কখন
মহান প্রভুর ডাকে
ছিন্ন করে মায়ার বন্ধন
ছেড়ে জগত মাকে।

পাপের বোঝা হচ্ছে ভারী
পূণ্যের বোঝা খালি
ধর্ম কর্ম স্বল্প করে
করছি পূণ্য বালি।

আর কতো দিন এই ধরাতে
পাবো আলো বায়ু
হঠাৎ ঝড়ে থমকে যাবে
আমার জীবন আয়ু।

এই জীবনের সকল অন্যায়
ক্ষমা করো প্রভু
ক্ষমার চাওয়ার সুযোগ হয়ত
পাবো নাহি কভু।

বাস্তবতা
খোরশেদ আলম খাঁন

স্বার্থপর এই ধরার বুকে
কতো মানুষ আছে
সুখের সময় আসবে কাছে
দুঃখের সময় পিছে।

টাকা পয়সা থাকে যদি
তোমার হাতে ভাই!
দেখবে তখন এই দুনিয়ায়
বন্ধুর অভাব নাই।

ঘুরবে তারা তোমার পাশে
মৌমাছির মত
বন্ধু তোমার ততই হবে
টাকা হবে যত।

কিন্তু যদি থাকে তোমার
অভাব ও যাতনা
সবাই তখন থাকবে দূরে
কাছে আসবে না।

হাঁসবে তারা তোমায় দেখে
হয়ে স্বার্থপর
বন্ধু বলতে নেই যে কেহ
সবাই তোমার পর।

ছন্দে ছন্দে বললাম আমি
তিক্ত কিছু কথা
মানো অথবা না-ই মানো
এটাই বাস্তবতা।

একুশ মানে
রিয়াজ মাহমুদ রাতুল

একুশ মানেই রক্তে গড়া স্মৃতির শহীদ মিনার
মুক্তিকামী লাখ জনতার মিছিল-গণজোয়ার।
একুশ মানেই রক্তমাখা ঢাকার রাজপথখানি
‘বাংলা যে চাই রাষ্ট্রভাষা’ এমন অক্ষয় বাণী।

একুশ মানে সালাম,বরকত,জব্বার,শফিউর
একুশ মানেই তেজোদীপ্ত রঙিলা এক ভোর।
একুশ মানেই হাজার কবির অবিনাশী লিখন
একুশ মানে বাংলা ভাষায় গল্প-কথন-শিখন।

একুশ মানে নওজোয়ানের নির্ভীক সেনাদল
ভাঙতে সকল অন্যায়ের দোর সত্য-মহাবল।
একুশ মানে প্রতিবাদের লেলিহান এক শিখা
একুশ মানেই প্রাণের দামে অন্যায় যবনিকা।

একুশ মানে ছিনিয়ে আনা ভাষার অধিকার
একুশ মানেই বাংলা আহা সুখের পারাবার!
একুশ মানেই প্রভাতফেরির স্মৃতিমাখা গান
একুশ মানেই কৃষ্ণচূড়ার বাতাস ছোঁয়া ঘ্রাণ।

একুশ মানে চেতনাবোধ,বাংলা প্রাণের ভাষা
দুঃখ-শোকে,সবার বুকেই জাগানিয়া আশা।
একুশ মানে বর্ণানো সব কাব্যের পঙ্ক্তিমালা
একুশ মানে প্রিয় বাংলায় মিটা মনের জ্বালা।

সবি তোমার দান
আনোয়ার হোসেন নিরব

রুহু দিয়ে জীবন দিলে
সৃষ্টিতে মোরা সেরা
আহার দিলে ভোজন দিলে
চারিপাশে ঘেরা।

মাঠে ভরা ফসল দিলে
বৃক্ষ ভরা ফল
ফুলে ফুলে ঘ্রাণ দিলে
নদী ভরা জল।

সবি দিলে আমার জন্য
চন্দ্র দিলে রাতে
সূর্য দিলে দিনের বেলায়
তুমি থাকো সাথে।

ঘর দিলে সংসার দিলে
সবার সাথে থাকতে
জ্ঞান দিলে জবান দিলে
তোমার কথা বলতে।

তোমার গুনপ্রচার করে
শেষ হবে না বলে
তুমি রহিম তুমি রহমান
থাকো অন্তর মহলে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৩০ বার

[hupso]
Shares