সর্বশেষ

» সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।। মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর

প্রকাশিত: 28. November. 2020 | Saturday

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি হাওর বেষ্টিত ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী জেলা। যুগে যুগে অনেক আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ও দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে ভাটি বাংলার এই উর্বর ও পলল মাটিতে। যাঁরা আমাদের এই দেশ মাতৃকার মান সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করণের পাশাপাশি দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত করে তুলেছেন তাদের স্বীয় মেধা ও সাধনা বলে।

প্রদীপের নীচের অন্ধকারের মত আলো বিতরণকারী অনেক ব্যক্তিত্বের জন্মস্থান ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ আজও একটি উন্নত সমৃদ্ধ ও আলোকিত জনপদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। হাওর বেষ্টিত, প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার সুবাধে এখানে উন্নয়নের ছোয়া এখনও ভালকরে লাগতে পারেনি। উন্নয়নের প্রয়োজনী অবকাঠামো এখানে এখনও প্রয়োজনানুসারে গড়ে উঠতে পারেনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই অঞ্চলটি এখনও দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক পিছনের সারিতে পড়ে আছে।

এখানকার শিক্ষার অবকাঠামো খুবই দর্বল। বিভিন্ন কারণে জনসংখ্যার অনুপাতে এখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনাই। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে এই অঞ্চল অনেক পিছনে পড়ে আছে। এখানে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ নাই বললেই চলে। অন্যান্য সমৃদ্ধ অঞ্চলের সাথে তাল মিলিয়ে এই অঞ্চলের জনগণ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উচ্চ ও আধুনিক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই। তাই উচ্চ শিক্ষার জন্য এই এলাকার মানুষকে বিভাগীয় শহর সিলেট অথবা রাজধানী শহর ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য এলাকায় ছুটতে হয়। এতে উচ্চ শিক্ষা অনেক ব্যয় বহুল ও কষ্টসাধ্য হওয়ার কারণে অনেক মেধাবী ছেলে মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে এই জনপদে তথা বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মেধার বিকাশ হচ্ছেনা বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া ও তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী, উন্নয়নের যাদুকরী নেত্রী, শিক্ষাবান্ধব ও হাওর বান্ধব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে দেশকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করতে গিয়ে একটা বিষয় উপলব্দি করতে সক্ষম হলেন যে, দেশকে যদি সত্যিকার অর্থে উন্নত সমৃদ্ধ করতে হয়, দেশের প্রতিটি এলাকায়, প্রতিটি ঘরে ঘরে, প্রতিটি মানুষের মুখে যদি উন্নয়নের হাসি ফুটাতে হয়, প্রতিটি মানুষের জীবন মান যদি উন্নত করতে হয়, যদি আলোকিত মানুষ তৈরী করে আলোকিত দেশ গড়তে হয় তবে দেশের প্রত্যকটি এলাকাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। দেশের অনুন্নত ও পিছিয়ে পড়া এলাকা সমূহকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে সামনের সারিতে টেনে এনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সমান তালে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।

তাই দেখা যায় যে দেশের হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, পার্বত্যাঞ্চল প্রভৃতি পিছিয়ে পড়া এলাকা সমূহকে বিশেষভাবে উন্নয়নের আওতায় এনে দেশের অন্যান্য এলাকা সমূহের সাথে জীবন মানের সমন্বয় সাধনের পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনানুসারে ঐ সমস্থ এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ উন্নয়ন সাধনের নিমিত্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করেন।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার জননী, জননেত্রী শেখ হাসিনা হাওর অঞ্চলকে ভালবাসেন, হাওর জনপদের মানুষকে ভালবাসেন, ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জকে ভালবাসেন। একটা ব্যবাপার আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতৃভূমি গোলাপগঞ্জ ও সুনামগঞ্জকে একই চোখে দেখেন। তিনি প্রায়ই গোলাপগঞ্জের সাথে সুনামগঞ্জের তুলনা করে থাকেন। তাই তিনি এই এলাকার মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘব করে জীবন মান উন্নয়নের চেষ্টা করেন। এই এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ প্রভৃতি প্রধান সমস্যা সমূহের সমাধান করে দেশের অন্যন্য এলাকার উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে এই এলাকাকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

আর তাইতো আমরা দেখতে পাই যে সুনামগঞ্জে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য, প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জের সাথে নেত্রকোনা হয়ে রাজধানী ঢাকার সংযোগ স্থাপনের জন্য হাওরের মধ্য দিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে উড়াল সেতু তৈরীর পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন।

দীর্ঘ দিন ধরে বঞ্চিত থাকা এই এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য, এই এলাকার মানুষের আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য, এই ভাটি এলাকায় চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার আলো ঘরে ঘরে জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য এই এলাকায় সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি ২০২০-২০২১ শিক্ষা বর্ষ থেকেই অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এর শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে।

আমাদের শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে আধুনিক ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য, দেশের প্রতিটি এলাকায় উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশের ঘরে ঘরে উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে একটি সমৃদ্ধ ও আলেকিত জাতি গঠনের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই যুগোপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত অনুসারে ভাটির এই জনপদ হাওর বেষ্টিত সীমান্তবর্তী জেলা ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সার্বিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

সারা দেশে বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে আরও ১৯ টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে এটি হবে দেশের ২০ তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত অনুসারে ইতিমধ্যে সারা দেশের ৩১ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে দেশের ৩২ টি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় চালু হতে যাচ্ছে। এটি চালু হলে চারটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হবে ৪২ টি। তাছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে আরও ১০৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এগুলো সারা দেশে উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য উচ্চ শিক্ষা প্রাপ্তির পথ নিশ্চিত করে তাদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে আমাদের মহান জাতীয় সংসদে গত ১৮ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২০ সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। অবশ্য এর আরও আগে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি খসড়া আইন তৈরী করা হয়। ২২ আগষ্ট ২০১৯ ইং তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়েে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় আইনের এই খসড়াটি চুড়ান্ত করা হয়। এর আগে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে এই খসড়া আইনটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। পরে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মাধ্যমে এর ভেটিং করা হয়।

পরবর্তীতে আবারও ২ মার্চ ২০২০ ইং তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তাঁরই সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে দেশের ২০ তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২০ এর খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে আমাদের মহান জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত চুড়ান্ত খসড়া আইনটি পাস করার জন্য বিল আকারে উত্তাপিত হয়। পরে সংসদে উত্থাপিত এই বিলটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আইনটি বিল আকার সংসদে উত্থাপিত হওয়া পরেই এর নির্মিতব্য স্থান নির্ধারণ নিয়ে সুনামগঞ্জবাসীর মধ্য দ্বন্দ্ব ও মতানৈক্য দেখা দেয়। বিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারিত ছিল সুনামগঞ্জের অন্যতম উপজেলা, আমাদের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের জন্মস্থান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদর শান্তিগঞ্জ এলাকায়। সুনামগঞ্জ সদর সহ অন্যান্য উপজেলাবাসীর দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় করা হোক। নতুবা সুনামগঞ্জ জেলা সদর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।

এই দাবির পক্ষে ২৫ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখে আমরা সুনামগঞ্জবাসীর ব্যানারে জেলা শহরের আফতাব স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক মানব বন্ধন ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে আবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জেও পাল্টা জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি সেখানে স্থাপনের জন্য।

এমনি পাল্টাপাল্টি কর্মসুচী ও টান টান উত্তেজনার মধ্যে সুনামগঞ্জের মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেন এবং ১৩ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে ঢাকায় এক যৌথ সভায় মিলিত হন। তারা ঐ বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এর নেপথ্য কারিগর মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নানকে অভিন্দন জানান। তারা বৃহত্তর স্বার্থে চারটি উপজেলার মোহনা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ স্থান আহসানমারা সেতুর উত্তর পূর্বে দেখার হাওরে উচ্চ শিক্ষার বাতি ঘর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনে একমত পোষণ করেন। পরবর্তীতে মানীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ও তাদের প্রস্থাবে সম্মতি জ্ঞাপন করলে জায়গা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটে।

পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে আমাদের মহান জাতীয় সংসদে ছাতক-দোয়ারা আসনের মানীয় সাংসদ ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জনাব মহিবুর রহমান মানিকের আনীত এক সংশোধনী প্রস্থাবের মাধ্যমে নতুন জায়গা নির্ধারণকৃত বিলটি মহান সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। সেই সাথে সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি পূর্ণতা লাভ করে।

আমাদের শিক্ষা ও হাওরবান্ধব প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাটি বাংলায় উচ্চ ও আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সুবিধা সৃষ্ঠি করে হাওর পাড়ে উচ্চ শিক্ষার আলো বিতরণ করার জন্য জ্ঞানের বাতি ঘর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন। এতে আমরা সুনামগঞ্জবাসী অত্যন্ত আনন্দিত, গর্বিত ও উল্লাসিত। আমরা মানীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট চির ঋণী ও কৃতজ্ঞ।। হাওরবাসীর পক্ষ থেকে, ভাটি বাংলাবাসীর পক্ষ থেকে, সুনামগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে আমরা তাঁকে জানাই প্রাণঢালা অভিন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যিনি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন, এত অল্প ও দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত ও মহান জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হওয়ার পিছনে নেপথ্য কারিগর হিসেবে যিনি কাজ করেছেন, এই ব্যাপারে যিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তিনি হলেন আমাদের আধুনিক সুনামগঞ্জের উন্নয়নের রুপকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী, হাওর রত্ন জনাব এম এ মান্নান এম পি। তার ঐকান্তিক ইচ্ছা, আগ্রহ ও পরিশ্রমেরই ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা তাকে ও জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও আন্তরিক মোবারকবাদ। সেই সাথে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জের অন্যান্য আসনের মাননীয় সাংসদদেরকেও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা, প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার ফলেই আজ আমাদের এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতই ভালোবাসেন এই দেশকে, ভালোবাসেন এই দেশের মাটি ও মানুষকে। ভালোবাসেন এই দেশের গরীব ও মেহনতি মানুষকে। তিনি হাওর ও ভাটি বাংলাকে, এই এলাকার পরিশ্রমী ও সংগ্রামী মানুষকে সত্যিকারভাবেই ভালোবাসেন। ভাটি বাংলার মানুষ ও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতেন তাদের হৃদয় দিয়ে এবং এখনও ভালোবাসেন। ভালোবাসেন তাঁর নীতি ও আদর্শকে। সারাদেশে উৎযাপিত হচ্ছে মুজিব শতবর্ষ। তাই আমরা মনে করি এই মুজিব বর্ষে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ভাটি বাংলার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি অনন্য উপহার।

আমরা আশা করি অচিরেই দেখার হাওরের নির্ধারিত স্থানে শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ। ভাটি বাংলার খোলা আকাশের নীচে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ক্যাম্পাসে নির্মিত হবে সুন্দর সুন্দর সুউচ্চ অট্টালিকা। আমরা আরও আশা করি এই সরকারের আমলেই এখানে শুরু হবে জ্ঞানার্জনের নিমিত্তে শিক্ষা কার্যক্রম। বৃহত্তর সুনামগঞ্জ তথা সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্ঞানপিপাসু ছেলে মেয়েরা এখানে জমায়েত হবে জ্ঞানার্জনের নিমিত্ত। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে ভাটি বাংলার এই সুউচ্চ জ্ঞানালয়, মুখরিত হবে ভাটি বাংলায় দেখার হাওরের আকাশ বাতাস। এখানকার নিঃসৃত জ্ঞানের আলোতে আলোকিত হবে সমগ্র ভাটি বাংলা, আলোকিত হবে সমগ্র বাংলাদেশ।

মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর
সহকারী অধ্যাপক : গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ।
সমন্বয়কারী : বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ, সিলেট।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৫ বার

[hupso]
Shares