সর্বশেষ

» মানুষ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ ও সম্মান-মর্যাদা নিয়ে কিছু কথা : শওকত আখঞ্জী

প্রকাশিত: 24. July. 2020 | Friday

 

মানুষের চারিত্রিক গুণাবলির অন্যতম দিক হলো মানুষ মানুষকে শ্রদ্ধা -স্নেহ করা। জাগতিক প্রত্যেক ধর্ম অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে।
ইহজগতে যার যতটুকু সম্মানের যোগ্যতা দেয়া হয়েছে তাকে ঠিক ততটুকু সম্মান করতে হবে । ছোটরা বড়দের প্রতি সম্মান করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে!ঠিক তেমনি রুপে বড় যারা তারা ছোটদের স্নেহ করার জন্য বলা হয়েছে।
বড় ও ছোটদের মধ্যে অনেক পার্থক্য দিক রয়েছে সবচেয়ে প্রকাশ্য দিক হলো বয়সের দিক থেকে বড়-ছোট।

স্রষ্টার সৃষ্টির রহস্যময়ের অন্যতম উপদান মানুষ! স্রষ্টা এই পৃথিবীতে কাউকে আগে পাঠান! কাউকে বা পরে পাঠান! বয়সের দিক থেকে কেউ হই বড় কিংবা কেউ হই ছোট!এসব দিক থেকে বিবেচনা করলে বৃদ্ধরাই সমাজে সবচেয়ে বড়!বয়সের দিক থেকে যারা বড় তারাই সম্মান পাওয়ার যোগ্য।

অনেক ক্ষেত্রে কখনো বড়-ছোটর মধ্যে তারতম্য হয় কখনো শক্তি-সামর্থ্যরে দিক থেকে! কিংবা কখনো বিশ্লেষণ করা হয় জ্ঞান-প্রজ্ঞার দিক থেকে আবার কখনো বিচার করা হয় পদ পদবী ক্ষমতার দিক থেকে।

তাই তো পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট। সুখ-শান্তিতে বসবাস করা পাশাপাশি নিয়ম শৃংখলিত ভাবে সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে বড়কে সম্মান ও ছোটকে স্নেহ করতে হবে।

আল্লাহ পাকের সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানুষই সর্বাধিক সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী,মানুষ স্রষ্টার অন্যতম সৃষ্টি! তাই জগতের যাবতীয় সৃষ্টিজীব মূলত মানুষের সেবায় নিয়োজিত।

এইসব দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে ধর্ম। স্রষ্টা মানুষের আকার-আকৃতি চমৎকার সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে কেন্দ্র করেই মূলত বিশ্বলোক সৃষ্টি! সৃষ্টিকূলের মধ্যে একমাত্র মানুষই বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন প্রাণী।

তাছাড়া স্রষ্টা বাকশক্তি দিয়ে মানুষকে সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দানকরেছেন! সৃজনশীলতা ও বিবেকবোধ মানুষের মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম উপাদান।
স্রস্টা মানুষ সৃষ্টির পর দুনিয়াতে মানুষকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে পাঠিয়েছেন সে সবসময় আবিষ্কার ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত!সৃষ্টির মধ্যে মানুষ একমাত্র দায়িত্বশীল তাই সে সমাজে বসবাস করে সামাজিক দায় বদ্ধতা,সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি মানুষের মধ্যেই রয়েছে।
স্রষ্টা মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা বিবেচনা করেই তার জান,মাল, বিবেক-সম্ভ্রম, ধর্ম ও বংশ রক্ষা করার জন্য বহু বিধিবিধান প্রণয়ন করেছে।
তাই স্রষ্টা মানুষকে কিছু নিয়মনীতিতে আবদ্ধ করতেই মানুষের বংশপরম্পরাকে রক্ষা করার জন্য জিনা-ব্যভিচারের পথ রুদ্ধ করে বৈবাহিক জীবনাচারের কথা বলেছেন এই পথ শুদ্ধ পথ।

মানুষের তার মেধা-প্রজ্ঞা, বিবেক-বুদ্ধি সতেজ ও পরিশোধিত রাখতে স্রষ্টা মানুষকে সব ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন।

স্রষ্টা মানুষ মানুষের সম্পদকে রক্ষা করার জন্য সব রকমের চুরি, ডাকাতি, লুটতরাজ, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও প্রতারণার পথকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।মর্যাদার দিক থেকে ধর্ম মানুষকে যেমন সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করেছে তেমনি দায়িত্ব-কর্তব্যের বিচারেও মানুষের অবস্থানকে রেখেছে শীর্ষে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তার প্রতিটি পদক্ষেপ হিসাব কষে কষে ফেলতে হয়। ইচ্ছে করলেই মানুষ যা ইচ্ছা তা করতে পারে না সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কিছু বাধা নিষেধ রয়েছে,মানুষ তার ইচ্ছা ও কর্মে স্বাধীন হলেও দায়বদ্ধতা রয়েছে প্রচুর। প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব সম্মান ও মর্যাদা সংরক্ষণে যেমন সচেতন হতে হবে ঠিক তেমনি অন্যের সম্মানহানী হয় এমন কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে ।
ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত সুনাম ও সম্মান নষ্ট করা তো দূরের কথা বরং তা রক্ষা করার জন্য নিকট ও দূর আত্মীয়সহ সকলের সাথে সদয় আচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছেঃ “পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদাচরণ করবে,আল্লাহ দাম্ভিক ও আত্মগর্বীকে পছন্দ করেন না।

ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের সুনাম, মর্যাদা অক্ষত রাখার জন্য যথাযথ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইসলামে মানুষের সুনাম ও সম্মান রক্ষার জন্য অত্যন্ত সতর্কতামূলক বাণী উচ্চারণ করেছেন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাক। কারণ কোন কোন ধারণা পাপ এবং তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কর না এবং তোমাদের কেউ যেন অন্যের গীবত না করে”

হাদীসে বলা হয়েছে”তোমাদের কোন ভাই যাতে করে অন্য মুসলিম ভাইকে ছোট না করে, কেননা এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই ভাই”
ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মুসলমান কর্তৃক অন্যের সুনাম, মর্যাদাকে নষ্ট করা তো দূরের কথা! বরং সর্বদা সে আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে যে, কখনও সে অন্যকে কষ্ট দিচ্ছে কি-না!

তোমরা কারো দোষ খুঁজে বেড়িও না,
গোয়েন্দাগিরিতে লিপ্ত হয়ো না এবং একে অপরকে ধোঁকা দিয়ো না!
হিংসা করো না! একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাব রেখো না! একজন থেকে আর একজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না!
একে অন্যের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো”
“তুমি কারোর কোনো ধরনের ক্ষতি করো না,
তেমনিভাবে “যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করতে চায়!আল্লাহ তায়ালা তার ক্ষতি করেন”
তেমনি ভাবে “যে ব্যক্তি অন্যের উপর কঠিন হয় আল্লাহ তায়ালাও তার উপর কঠিন হন” আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালবাসেন।

মানবাধিকারের প্রতি পুরোপুরি গুরুত্ব আরোপ করেছেন
মানবসমাজে কোনো রকম অশান্তি সৃষ্টি, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা, সহিংসতা কোন বিবেকবান মানুষের কাম্য নয়।
প্রত্যেককেই ধর্ম যার যার অবস্থানে দিয়েছেন যথাযথ অধিকার দায় দায়িত্ব নিয়মনীতি।

পরিবার হল এমন একটা ব্যাপার, যেখানে একে অন্যের বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে যারা একসঙ্গে জটাপটি করে থাকে আর একে অপরের চোখের জল মোছায়,একে অন্যের আনন্দে হাসে তাকেই বলে পরিবার!
আপনি কী বোঝেন,মানেন সেটা নির্ভর একান্ত আপনার উপর।

পরিবার আপনি জন্মসূত্রে পেতে পারেন,কর্মসূত্রে পেতে পারেন আবার বন্ধুসূত্রেও পেতে পারেন! শুধু আপনার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক থাকলেই আপনি তাকে নিজের পরিবারের অন্তর্গত মনে করবেন, এমনটা নয়। আত্নার সম্পর্কটাই আসল সম্পর্ক।

আবার যারা মনে করে যে,
“সুখ হয়তো গাড়ি,বাড়ি,অলঙ্কার,কাপড়-চোপড় কিংবা ধন-দৌলতের মধ্যে আছে! কিন্তু এই সব প্রাপ্তি মানুষকে সাময়িক ভাবে কিছুটা সুখ দিতে পারলেও যেন প্রকৃত পক্ষেই স্থায়ী সুখ প্রাপ্তির জন্য এ ধরণের বহু চাহিদাগুলোও বড় ভূমিকা পালন করে না করতে পারে না” উক্ত কথাগুলো ধর্মের মর্ম কথা তার সাথে সমাজ বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাই মনে করে থাকেন।

ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম আমাদের অনেক কিছু শেখায়-দেখায় এবং তথ্য সংগ্রহ করতে সুবিধা দেয়।
আসুন ভালো কিছু লালন করতে শিখি,মন্দ সব বর্জন করতে শিখি।

লেখকঃ
শওকত আখঞ্জী
উন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫১৮ বার

[hupso]
Shares