সর্বশেষ

» প্রথম স্থানে বিজয়ী রচনা ।। করোনা পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে আমাদের করনীয় ।। তানভীর আহমেদ তুষার

প্রকাশিত: 25. June. 2020 | Thursday

করোনা পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে আমাদের করনীয় ।। তানভীর আহমেদ তুষার

ভূমিকা : বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস। এটি এমন একটি ভইরাস যা মানুষের ফুসফুসে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম। করোনা ভাইরাস খুবই বিপদজনক ভাইরাস, যা এর আগে কখনোই মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি। বিশ্বব্যাপি এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ লাখেরও বেশি। এমতাবস্থায় এই রোগের কোনো প্রকার ঔষধ আবিষ্কার করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বয়স্ক ব্যাক্তি বা যাদের কোনো ধরণের অসুস্থতা রয়েছে, তাদের মারাত্নকভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেহেতু এই রোগের কোনো ঔষধ আবিষ্কার হয় নি,সেহেতু আমাদেরকে নিজ দায়িত্বেই সুস্থ থাকতে হবে। তাছাড়া আমরা যদি সচেতন হয়ে চলতে পারি তাহলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। প্রতিদিনের জীবনযাপন যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তবে আমরা করোনাকে অতি সহজেই জয় করতে পারবো। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে আমরা দৈনন্দিন জীবনযাপন করে নিজেকে এবং অন্যকে সুস্থ রাখতে পারব তা নিচে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হল।

(১) নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস : আমরা প্রতিদিন অধিকাংশ কাজই হাতের মাধ্যমে করে থাকি, যার ফলে আমাদের হাতের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু বাসা বাঁধে। আর উক্ত রোগটি হাতের মাধ্যমেই বেশি ছড়ায়। এজন্য বার বার হাত ধোয়ার অভ্যাস করা এই রোগ থেকে দূরে থাকার সর্বোত্তম উপায়। দিনে ১০-১৫ বার হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়। নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে।

(২) মুখে মাস্ক পড়া : করোনা ভাইরাস শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য ভাইরাসের তরল উৎস হাঁচি-কাশির ফোটা থেকে উপযুক্ত মাস্ক মোটামুটি ভাবে সুরক্ষা দেয়। আমাদের উচিৎ যেসব মাস্ক ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকরী তা সংগ্রহ করে ব্যবহার করা। যেমন এন ৯৫ এই মাস্কটি খুবই কার্যকর এবং এটি পৃথিবীর সর্বত্রই ব্যবহার করা হয়ে থাকে সুরক্ষার জন্য।

(৩) হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যুর ব্যবহার : হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় হাতের তালুতে মুখ চেপে রাখা একদমই ঠিক নয়। কারন এর ফলে জীবাণু হাতেই থেকে যায়। সুতরাং হাঁচি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে এবং জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। হাঁচি-কাশি দেওয়ার পর আমাদের হাত কোথাও মুছা উচিৎ নয় যেখানে অন্যান্য মানুষরা হাত স্পর্শ করে বরং সাথেসাথেই হাত ধোয়ে ফেলাই ভালো।

(৪) জনসমাগম এড়িয়ে চলা : বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি কোনো অতি জরুরি কাজ না থাকে তাহলে ঘরের ভেতরেই অবস্থান করা উচিৎ। কারণ বাসা থেকে বের হলেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তবে কোনো বিশেষ কাজে আক্রান্ত এলাকায় গেলে ফেরার পর ১৪ দিন জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে হবে। সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে পরিবারের কেউ যেন কোনো প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বের না হতে পারেন । কারণ এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, নিজে সুস্থ থাকা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যদেরকে সুস্থ রাখা।

(৫) লক্ষ্মণ দেখা দিলে করণীয় : মূলত জ্বর দিয়েই এই রোগের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপর শুঁকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। এসব লক্ষ্মণ দেখা দিলে সাথেসাথেই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে মনোবল শক্ত রাখতে হবে। আর কোনো ক্রমেই বাহিরের কারও সাথে দেখা করা যাবে না। বরং ডাক্তারের সাথে ফোনে পরামর্শ নেওয়া উচিত। তারপর ডাক্তার যদি করোনা টেস্টের জন্য বলেন তাহলে টেস্ট করাতে হবে।

(৬) জন সচেতনতা সৃষ্টি :
বর্তমান যুগ হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো কিছু খুব সহজেই প্রচার করা যায়। যেমন ফেইসবুক, হোয়াটসাপ ইত্যাদি। তাছাড়া পোস্টারিং ও মাইকিং এর মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের সবার উচিৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে উল্লেখিত রোগের লক্ষণ ও করনীয় সম্পর্কে অবগত করা। কারণ মানুষ সচেতন হলেই সংক্রমণের হার কমে যাবে।

(৭) খাবার তালিকা : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে খাবার তালিকা হতে হবে পুষ্টিকর ও ভিটামিন সমৃদ্ধ। যেসব খাবার আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সেসব খাদ্য বেশি করে খেতে হবে। আমাদেরকে যেমন সংক্রমণ প্রতিরোধী খাবার গ্রহণ করতে হবে, ঠিক তেমনি কিছু ক্ষতিকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, দুধ জাতীয় খাবার, রঙিন শাকসবজি প্রচুর পরিমানে খেতে হবে। অন্যদিকে বাহিরের খাবার যেমন হোটেল বা রাস্তার খাবার খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। আর যাদের ধুম ও মদ পানের বাজে অভ্যাস রয়েছে তাদেরকে এই অভ্যাস অবশ্যই ছাড়তে হবে। পাশাপাশি লাল চা খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।

(৮) সরকারি আইন ব্যবস্থা : এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সরকার তাদের জনগণের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আমাদের দেশের সরকারও কিছু নিয়ম নীতি চালু করেছেন এই মহামারির সময়ের জন্য যেমন বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি। আমাদের সবার উচিৎ সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ মেনে চলা।এতে করে আমাদের প্রত্যেকের জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হবে।পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের অর্থনীতি সচল রাখার জন্য কাজ করতে হবে যদি সরকার থেকে অনুমতি দেওয়া হয়।

(৯) ত্রান কার্যক্রম : আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ বসবাস করেন যারা অসহায় গরিব। বর্তমানে অনেক বেসরকারি কর্মস্থল বন্ধ এবং কর্মস্থলে না যাওয়ার কারনে কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না।পাশাপাশি গরিব লোকেরা কাজে যেতে পারতেছেন না। এজন্য আমরা যারা বিত্তবান আছি, আমাদের উচিত নিজের সুরক্ষা বজায় রেখে ওইসব অসহায় অনাহারী মানুষদেরকে অর্থ ও খাবার দিয়ে সাহায্যে করা। এর মাধ্যমে মানবতার প্রকাশ ঘটবে। কারণ মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। তাছাড়া প্রতিটি পাড়ায়,মহল্লায়,গ্রামে সাহায্যে তহবিল গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে অসহায় মানুষদের বেঁচে থাকার অবলম্বন হবে।

উপসংহার : গোটা মানবজাতি আজ ক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে অসহায়। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য কোনো প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয় নি। তাই সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধই হচ্ছে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। আসুন সবাই সচেতনতার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৯৪ বার

[hupso]
Shares