সর্বশেষ

» খালিস তাওবা ।। মাওলানা মুঈনুদ্দীন তালুকদার

প্রকাশিত: 26. May. 2020 | Tuesday

আল্লাহ তা’আলার দরবারে বান্দার তাওবা করা অধিক পছন্দনীয়। মানুষ অপরাধ করার পর আল্লাহ তা’আলার নিকট তাওবা করা ও গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করাকে তিনি অত্যধিক পসন্দ করেন। আল্লাহ তা’আলা তাওবা কবুল করেন এবং বান্দাকে পুতঃপবিত্র করে দেন।
তবে আমাদেরকে জানতে হবে যে, তাওবা কি এবং তাওবা কবুল হওয়ার জন্য শর্তাবলী কি?

তাওবার সজ্ঞাঃ তাওবা শব্দের আভিধানিক অর্থ হল ”ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা।”

ইসলামী পরিভাষায় তাওবা বলা হয়- যেসকল কথা বা কাজ আল্লাহর নৈকট্য থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয় তা থেকে ফিরে এসে ঐ সকল কাজ ও কথায় লিপ্ত হওয়া, যদ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। এক কথায়, পাপকর্ম থেকে ফিরে এসে সৎকর্মে লিপ্ত হওয়াকেই তওবা বলে। মানুষ ভুল করে। শয়তানের কুমন্ত্রনায় পড়ে তার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ভুলে যায় স্রষ্টার নির্দেশ। ফলে অন্যায় ও পাপকর্মে জড়িয়ে পড়ে নিজেকে কলুষিত করে। তবে যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ভবিষ্যতে আর কখনো তাতে ফিরে যাবেনা বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে ফিরে আসে আল্লাহর পথে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাওবাকারীর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং অত্যান্ত খুশি হন।

খালিস তাওবাঃ

জনৈক বুযুর্গ অতি সংক্ষেপে তাওবার ব্যাখ্যা এভাবে প্রদান করেছেন, “গুনাহের কারণে মনের ভিতর অনুতাপের আগুণ জ্বলাকেই তাওবা বলে”।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, “অনুতপ্ত হওয়াই তাওবা”। ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা-৩১৩]

অধিকারের দিক থেকে পাপ দুই প্রকারঃ

(১) আল্লাহর হক্ব তথা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘন সংক্রান্ত পাপ। যেমন: নামাজ আদায় না করা, রোজা পালন না করা, মদ্যপান করা ইত্যাদি।
(২) মানুষের অধিকার সংক্রান্ত পাপ। যেসকল পাপের দ্বারা মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন হয়, মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যেমন: চুরি করা, ডাকাতি করা, জুলুম নির্যাতন করা, ইভটিজিং করা ইত্যাদি।

পাপের সম্পর্ক যদি আল্লাহর অধিকারের সাথে হয়, তাহলে তা থেকে তওবা করতে হলে তার মাঝে তিনটি শর্ত বিদ্যমান থাকতে হবে বলে ওলামাগণ বলে থাকেন।

১। পাপ কাজটি পরিহার করতে হবে।
২। কৃত পাপকর্মের প্রতি আন্তরিকভাবে লজ্জিত বা অনুতপ্ত হতে হবে।
৩। ভবিষ্যতে আর এপাপকর্মে লিপ্ত হবেনা বলে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।

পবিত্র কুরআনের আলোকে তাওবাঃ

আল্লাহ্ তাআ’লা ইরশাদ করেন,“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট খাঁটিভাবে তাওবা কর”। [সূরা তাহরীম, আয়াত-৭]

তাওবার পূর্বে ইস্তেগফারঃ

وَأَنِ ٱسْتَغْفِرُوا۟ رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوٓا۟ إِلَيْهِ

“আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তার কাছে ফিরে যাও”। (সূরা হুদ, আয়াতঃ ৩)

তাওবা কবুলিয়াত সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন–

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآَنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا

অর্থ:- “অবশ্যই আল্লাহ্ তাদের তাওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে অনতিবিলম্বে তাওবা করে। এরাই হল সে সব লোক যাদেরকে আল্লাহ্ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ্ মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে। এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন বলতে থাকে: আমি এখন তাওবা করছি। আর তাওবা নেই তাদের জন্য যারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি”। [সূরা নিসা, আয়াত ১৭-১৮]

হাদীসে তাওবার মর্যাদাঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, গুনাহ্ থেকে তাওবাকারী এমন পবিত্র হয়ে যায় যে, যেন তার কোন গুনাহই নেই। [ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা-৩১৩]

নবীজী সা. বেশি পরিমাণে তাওবা ইস্তেগফার করতেন। যেমন-

قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ وَاللهِ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً

“হযরত আবূ হুরাইরাহ বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি যে, আমি অশ্যই আল্লাহর কাছে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তিগফার ও তাওবাহ করে থাকি। (বুখারী, হাদীস নং-৬৩০৭)

عَنِ الأَغَرِّ الْمُزَنِيِّ، – قَالَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ – قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي كُلِّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏

“আল-আগার আল-মুযানী রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন- অবশ্য কখনো কখনো আমার ‘কলব’ পর্দাবৃত হয় (অর্থাৎ মানুষ হিসাবে দুনিয়ার কাজকর্মে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহ্‌র যিকির হতে গাফিল হয়।) এবং আমি আল্লাহ্‌র নিকট দৈনিক একশত বার ইস্তিগফার করে থাকি। (আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫১৫)

আল্লাহ তা’আলা আমাদিগকে খালিস তাওবা এবং তদানুযায়ী ‘আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন

লক্ষ্মীবাউর, ছাতক, সুনামগঞ্জ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৮ বার

[hupso]
Shares