সর্বশেষ

» জেনারুল ইসলামের পাঁচটি কবিতা

প্রকাশিত: 18. January. 2021 | Monday

জেনারুল ইসলামের
পাঁচটি কবিতা

১. সুমেশ্বরী

সুমেশ্বরীর যে পাড়ে তোমার উর্বর বসতি
তার বিপরীতে চলে কেবল ভাঙ্গনের খেলা
এ পাড়ের বুক পাঁজরের হাড় –
জমাট বাঁধে তোমার ফলনশীল পাড়ে।

যতটা অবহেলা তুমি করেছো
নীলাদ্রী হয়ে মেঘালয় থেকে বেয়ে আসা
হিমশীতল জল অতোটা অবহেলা করে নি
দু’পাড়ের দুজনকে আলিঙ্গন করে রেখেছে
জলের বাঁধনে।

তুমি পা ভিজালে সুমেশ্বরী আমার কানে কানে শোনায় চলাৎ চলাৎ মিলনের সুর।

তুমি বরং সুমেশ্বরীর বুকে জল হয়ে থেকো
নয়তো মেঘালয়ের পাদদেশের চন্দ্রমল্লিকায়
উত্তাল স্রোতে যদি ভেসে যাও শ্রাবণের ঢেউয়ে
ওপারের তীরে আঘাতে আঘাতে ভেসে যেও…!

২. স্বপ্নচারিণী
আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে যার স্বপ্ন সীমারেখা
হৃদয়ে লালন করে মানুষ আর মানবতা
বিশ্বাসের রোদ আঁছড়ে পড়ে জীবনের উঠোনে
মগজে ঢেউ তোলে প্রেম আর স্বিগ্ধতার সুবাস।

স্বপ্নবাজ চোখে দেখেছি কামুকতার উচ্ছ্বাস
হয় পুঁড়ে যাবার ভয়
তবুও নিরাপদ দুরত্বে পাশাপাশি বাস।

নামহীন সম্পর্কের জের ধরে পথচলি বহুদূর
মুক্তমনে লেনদেন করি সুখ-দুঃখ কথোপকথন
দূরদর্শী বিবেকে পাঠ করি জীবনের গল্প
উন্মুক্ত পৃথিবীর মতো আবেগ রাখার ভান্ডার।

বিশ্বাস,ভরসা আর ভালোবাসায় এ দেহ গড়া
লুকোচুরির বিন্দুমাত্র নেই,নেই মুখোশের চিহ্ন
স্বচ্ছ জলের মতো এক টুকরো পবিত্র হৃদয়
আজন্মকাল কেঁদে যায় মানুষ আর মানবতায়।

জীবন নদীর মতো হয় মনু নয়তো সুরমা
মোড় নেয় দিক বদলায় সময়-অসময়ে
চব্বিশ বসন্তের আগমণে জীবনের মাহেন্দ্রক্ষণ
সুরমার স্বচ্ছজলে ভাসালাম সুখের তরী
মনু পাড়ে ভিড়লে উঠে এসো সানন্দে….!

৩.প্রেমাঞ্জলি
বিশ্বাস আর ভরসায় ভরা হাতটার খুব অভাব
হৃদয়ের শুন্যস্থানে কেবল অসুরের আনাগোনা
অজস্র বছর প্রতীক্ষায় থাকি সুখ পাখির খুঁজে
অতঃপর হেমন্তের শেষে ঘোমটা দেয়া বধূর-
অকস্মাৎ শুভাগমন।

সবুজাভ গালিচায় স্বাগত জানায় সম্ভাষণে
কুয়াশা ভেজা দূর্বাঘাসে দেখি প্রণয়ের হাসি
শীতের আমেজে ঘরে আসুক প্রশান্তির প্রতীমা
লাবণ্যময়তা ছাড়িয়ে যাক অসীমের পানে-
দিগন্তরেখার বিনে সুতোর বাঁধনে।

পূণ্যজলে স্নান করে সূচনা হোক নবজন্মের
বিশ্বাস আর ভরসা ভরা হাত অটুট থাকুক
দৃঢ় হোক প্রীতি আর কামুকতার উন্মাদনায়
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বেড়ে উঠুক শেঁকড়ের টানে
হৃদয়স্পর্শী প্রেমাঞ্জলি নবদম্পতির পদতলে।

সুখের তরী ভেসে চলুক উজান গাঙের স্রোতে
ভরা পূর্ণিমায় সৌখিনদারের নাও নোঙর ফেলবে
জল-জোছনার সন্ধিক্ষণে।
বিশ্বাসে ভরা হাত সেদিন উচু করে দেখাবে-
প্রণয়ের অসীম উপমা।

৪. প্রাক্তন
বিশ্বাস আর ভালোবাসায় যে হাতটা ধরেছিলাম
কথা ছিলো ধরে রাখবো জন্ম জন্মান্তর
অভিমানে সে হাতটা তুমি ছেড়ে দিয়েছো!

অভিমান আমারো ছিলো
তোমায় হারাবার ভয় ছিলো তার চেয়েও বেশী
তাই তো কখনো জিদ করি নি তোমার সাথে।

আমি কথা রাখি-
কথা ছিলো তোমার জন্মদিনের প্রথম শুভেচ্ছা আমিই জানাবো
জানি তোমার ত্রিসীমানায় আমি নেই শুন্যস্থানে এসেছে নবীন
তুমিও বরণ করেছো পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে।

তবুও আমি তোমাকে জানাই তোমার জন্মদিনের শুভেচ্ছা
হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা দিয়ে ঘিরে রাখি তোমায়
রজনীগন্ধ্যা কিংবা তোমার প্রিয় ফুলের পাঁপড়িতে তোমায় সাজাতে
পারি নি তবে হৃদয়ের মসনদে রবে আজন্মকাল।

রিক্তহাতে একবুক ভালোবাসায় সিক্ত হোক তোমার নব জীবন
আমার আজন্ম ভালোবাসা রইলো তোমার তরে।
শুভ জন্মদিন আমার ভালোবাসা।

৫. সত্যের সন্ধান
গন্তব্যহীন পথিক ছুটে চলে গহীন বালুচরে
খাঁ খাঁ রোদ্দুর আর ধোঁয়াশা জীবনের পথ
নীরবতায় মন ভাঙ্গে বহুবার!

ভরসার হাতটা হারিয়ে গেছে বুঝে উঠার আগেই
যখন জীবন আর ভালোবাসা চিনেছি বহুরুপে
তখন কেবল শুন্যতা আর বিচ্ছেদের ছড়াছড়ি।
বিশ্বাসের ভরাডুবিতে অবাক হই নিরবধি
আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে-
জোরে ঠেলে দেবার কতোশতো অজুহাত।

মিথ্যে সাত্বনা আর প্রশান্তির অন্বেষায়
খুঁজে ফিরি সবুজাভ প্রান্তর-লোকালয় ছেড়ে
সহস্র স্টেশান পাড়ি দেই লোভাতুর হাতছানীতে
অতঃপর রিক্তহস্তে ফিরি আপন ঠিকানায়
আতুরঘরের ঘ্রাণে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখি।

মাঝে মাঝে তার ব্যতিক্রমও ঘটে যায়
যদিও তা বলতে মানা! তবুও মন মানে না।

প্রেয়সীর সহসা শুভাগমনে হৃদয় পুলকে জাগে
রঙিন সুতোয় বুনন করি স্বপ্নের মায়াবী জাল
মন খারাপের সময়টায় কারো উচ্ছ্বসিত হাসিতে
জীবন কানে কানে বলে সহস্র বছর পর এলে।

জেনারুল ইসলাম
নিলয় ৫৮/ক,
পূর্ব দরগা গেইট
আম্বরখানা, সিলেট
মোবাইলঃ 01782005665

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪৩ বার

[hupso]
Shares