সর্বশেষ

» তাহিরপুর মুক্তিসংগ্রাম কমিটি ও যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত তথ্য || শওকত আখঞ্জী

প্রকাশিত: 31. December. 2020 | Thursday

তাহিরপুর মুক্তিসংগ্রাম কমিটি ও যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত তথ্য || শওকত আখঞ্জী

২৫শে মার্চ কালোরাত্রির ভয়ংকর হত্যার পর ২৬শে মার্চ ঢাকায় পাকসেনাবাহিনীর মানব ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞে ক্ষণিকের জন্য শঙ্কিত হলেও পরমুহুর্তেই তাহিরপুর এলাকার জনগণ দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে দেশমাতাকে রক্ষা করার উদ্যেশ্যে বাংলদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম ভাবে স্বাধীনতার লক্ষ্যে নিয়েও তাহিরপুরের জনগণ প্রতিরোধ এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ করে উক্ত সদস্যদের নিয়ে অল্পক্ষণিকের মধ্যেই স্থানীয় ভাবে মুক্তিবাহিনী দল গঠন করা হয়। তাহিরপুর থানার অবস্থা ছিল তপ্ত লাভার মতো টগবগে। আব্দুজ জহুর এম.পিএ এলাকায় মুক্তি সেনার দুর্গ গড়ে তোলেন। তাহিরপুর থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান(মিরসরাই,চট্রগ্রাম)প্রথম থেকেই ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের সহায়ক শক্তি। ২৫শে মার্চ ১৯৭১ সালে প্রয়াত জনাব আব্দু জহুর ওসি সাহেবকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ২৬ শে মার্চ থানার অস্ত্র দিয়ে ১০০ তরুণকে ওসি সিদ্দিকুর রহমান নিজেই সাতদিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাধীনতার সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলেন। সেদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব গোলাম মোস্তফা (মোল্লাপাড়া), হাজী সুন্দর আলী (বাদাঘাট), শাহনূর (বড়দল), উস্তার আরী (বড়দল), আব্দুল মতলিব (বড়দল), হারিস উদ্দিন (কাউকান্দি), রমিজ উদ্দিন (কাউকান্দি), মুজিবুর রহমান (রামেশ্বরপুর), মোজাহিদ উদ্দিন আহমদ (বাদাঘাট),আবদুল কাদির (তাহিরপুর),আব্দুস সালাম (তাহিরপুর),জালাল উদ্দিন (তাহিরপুর),রফিকুল ইসলাম (তাহিরপুর), গিয়াস উদ্দিন আহমদ (তাহিরপুর),সাদেক আলী(তাহিরপুর),আজম আলী (তাহিরপুর),আব্দুল বারী (চতুর্ভূজ), কুদরত আলী (গোলকপুর), আজিজুর রহমান (কুচনালী), আব্দুল আউয়াল (তরঙ্গ), রোজ আলী (টেকেরঘাট) প্রমূখ প্রশিক্ষন নিয়ে সশস্ত্রভাবে শক্রর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকেন।
২৭শে মার্চ প্রয়াত জনাব আব্দুজ জহুর এমপিএর নেতৃত্বে হাজার হাজার লোকের বিক্ষোভ মিছিল হয়। ঐ দিনই জন্ম নেয় তাহিরপুর সংগ্রাম কমিটি। কমিটি ছিল নিম্নরুপ (অসম্পূর্ণ)-
আব্দুজ জহু্র এম.পি.এ – সভাপতি
রমেন্দ্র রাম চক্রবর্তী – সহ-সভাপতি
জনাব নুরুল হৃদা আখঞ্জী (গোবিন্দশ্রী)-কে সাধারণ সম্পাদক এবং
প্রয়াত জনাব আব্দুন নূর আখঞ্জীকে কোষাধ্যক্ষ করে এবং তার সাথে সর্বজনাব
গোলাম মোস্তফা (তাহিরপুর)-সদস্য,
মোজাহিদ উদ্দিন আহমদ (বাদাঘাট)-সদস্য,
আবু তাহের (গুটিলা)-সদস্য,
আবুল হোসেন-সদস্য,
আবুল কুদ্দুস (বড়দাল) -সদস্য,
ফাতেহ আলী মজুমদার (বালিউরি)-সদস্য,
আব্দুছ ছত্তার তালুকদার, (শ্রীপুর)-সদস্য,
আব্দুল খালেক (কাউকান্দি) প্রমুখ সদস্য করে তখন মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক ভূমিকায় আরো ছিলেন সর্বজনাব প্রয়াত আব্দুল আজীজ চেয়ারম্যান, নারায়ণ চক্রবর্তী (সূর্যেরগাঁও), আলী আমজদ (তাহিরপুর), কালু মিয়া (আনসার কমান্ডার,তাহিরপুর), আম্বর আলী (আনসার কমান্ডার, তাহিরপুর), হাজী সুরুজ মিয়া (নাগরপুর), রবিউল আউয়াল (নাগরপুর), ডা. সিরাজুল ইসলাম (বাদাঘাট), আব্দুল মজিদ (শিবেরচর), কালু মেম্বার, জালাল উদ্দিন (মুদাইরগাঁও), লায়েছ চেয়ারম্যান(সিরাজপুর), আব্দুস সাত্তার (দুর্গাপুর),হাজী আব্দুল কাদির (শক্তিয়ারখলা) আব্দুস সালাম (বালিজুরী), আব্দুর রউফ (রামজীবনপুর), মোক্তার আলী, ইসমাইল মোড়ল (লামাগাঁও), মকবুল হোসেন মাস্টার (পাটাবুকা), আব্দুল মতিন (শ্রীপুর), দুলা মিয়া, আব্দুল হামিদ,শহীদ তালুকদার,আশজদ আকঞ্জি, ফটিক মেম্বার (গোলকপুর), রমিজ উদ্দিন (কাউকান্দি), আব্দুল হান্নান, মো. মইনুল হক, আব্দুল কাদির তালুকদার, আব্দুল কুদ্দুস, রহিম উদ্দিন, আব্দুল কাদির,জনাব সুবেদার গনি মহোদয় প্রমুখ আরো অনেক শ্রদ্ধেয়জন সদস্য রয়েছেন ।
তাহিরপুরের টেকেরঘাটের চুনাপাথর প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কমকতারা ২৬শে মার্চ বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে সংগ্রাম কমিটির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। সেখানকার কর্মকর্তা এ.এ. কোরেশী, সৈয়দ রশিদুন্নবী, আনিসুর রহমান, মোঃমাহতাবুল ইসলাম,ফরিদ আহমদ, জ্যোতিময় মুনসী,আব্দুল কাদের প্রমূখ সম্মিলিতভাবে ২৭ শে মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
টেকেরঘাট অঞ্চলে একটি প্রতিরোধ কমিটি ছাড়াও সংগ্রাম কমিটির কমকান্ড ছিল প্রাণ চঞ্চল।
মুক্তি সংগ্রাম কমিটির মধ্যে ছিলেন শফিকুর রহমান ও.সি (চট্রগ্রাম), আব্দুল হাই (ই.পি.আর) এবং চুনা পাথর প্রকল্পের এ.এ কোরেশি, সৈয়দ রশিদুন্নবী, আনিসুর রহমান, মো. মাহতাবুল ইসলাম, ফরিদ আহমদ, জ্যোতির্ময় মুন্সী, আব্দুল কাদের। পরবর্তীকালে জাতীয় সরকার গঠনের পর টেকেরঘাটে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং আগের কমিটির সাথে শ্রদ্ধেয় সর্বজনাব আব্দুজ জহুর এম.পি.এ,জনাব সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জনাব হোসেন বখত,জনাব নজির হোসেন ও জনাব আলী ইউনুস উনারা যুক্ত হন ।
সেপ্টেম্বর মাস পযন্ত তাহিরপুর অঞ্চল মুক্ত ছিল,অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ও প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাকসেনারা এ অঞ্চলে দীঘদিন আসতে পারেনি। তবে ১০শে সেপ্টেম্বর পাকসেনারা তাহিরপুর এলে পরবর্তী ধ্বংসাত্মক অধ্যায়ের শুরু হয়।

পাকসেনারা দ্বিতীয়বার জামালগঞ্জ দখল করার পর তাহিরপুর পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার জন্য পরিকল্পনা নিতে থাকে। তাহিরপুর থানা সদরে মুক্তিযোদ্ধাদের তেমন শক্তিশালী অবস্থান না থাকায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাকসেনারা তাহিপরপুর থানা সদর দখল করে এবং প্রচুর সেনা ও গোলাবারুদ মজুদ করতে থাকে। এদিকে বিনা বাধায় পাকসেনাদের তাহিরপুরে আসতে দেয়া ছিল মুক্তিবাহিনী সদস্যদের একটা কৌশল। তারা চোরাগোপ্তা ও গেরিলা পদ্ধতিতে হামলা চালিয়ে, পাকসেনাদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের বড়দল, কাউকান্দি, শ্রীপুর ইত্যাদি গ্রামে অবস্থান করে নিজেদের সংঘঠিত করতে থাকেন ।
একসময় পাকসেনাদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা বড়দল, কাউকান্দি, শ্রীপুর ইত্যাদি গ্রামে অবস্থান করে নিজেদের সংগঠিত করতে থাকেন। একসময় পাকসেনারা ডাম্পের বাজার পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে টেকেরঘাটে আসতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধারা মর্টার ও এল.এম.জি দিয়ে গোলাবর্ষন করে পাকসেনাদের প্রতিরোধ করেছিল।
তাহিরপুর অঞ্চলে পাকসেনাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে ঘন ঘন যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারতীয় বাহিনীর মেজর বাট, ক্যাপ্টেন বার্মার পরামর্শে মুক্তিবাহনী ক্যাপ্টেন মুসলিমউদ্দিন,সালেহ চৌধুরী, নজির হোসেন, গোলাম মোস্তফা প্রমুখের নেতৃত্বে বারবার পাকসেনাদের ঘাটিতে চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হয়।

পাকসেনারা তাহিরপুরে অবস্থানের সময় মাঝে মধ্যে শ্রীপুর এলাকায় টহলে আসত। এ সুযোগে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, (কালীপুর,পরে শহীদ), তোতা মিয়া (লম্বাবাক), আব্দুল বারিক (লম্বাবাক), চিত্তরঞ্জন দাস (মাহমুদপুরি), আব্দুর রউফ (সাজেদাপুর,ধর্মপাশা) গেরিলা পদ্ধতিতে হঠাৎ করে টহলরত পাকসেনাদের ওপর আক্রমন করলে পাকসেনাদের কয়েকজন আহত হয়। আর সুযোগ বুঝে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। ঠিক একইভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজদ,জনাব মোজাহিদ উদ্দিন, জনাব মোস্তফা মিয়ার (বড়দল, তাহিরপুর) নেতৃত্বে একটি দল বীরনগরে অবস্থানরত পাকসেনাদের আক্রমণ করেন।
এযুদ্ধ আট ঘন্টা স্থায়ী হয়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব বুরহান উদ্দিন (বড়দল, তাহিরপুর),জনাব আলাউদ্দিন (বড়দল, তাহিরপুর) জনাব আব্দুল বারেক (কালীপুর, জামালগঞ্জ), জনাব নূর মিয়া (জগন্নাথপুর) প্রমুখ অংশগ্রহন করেন। যুদ্ধে পাকসেনাদের প্রভূত ক্ষতি হয়। অপরদিকে এ যুদ্ধে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।
৩রা নভেম্বর ক্যাপ্টেন মুসলিমউদ্দিন ও মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে এক কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা তাহিরপুরে অবস্থাবরত পাকসেনাদের ঘাঁটিতে অতর্কিতে আক্রমণ চালালে কয়েকজন পাকসেনা হতাহত হলেও পাকসেনাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ৯ই নভেম্বর শাহগঞ্জ-শ্রীপুর থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল হাই ও জনাব মোজাহিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিসেনারা ভাটি তাহিরপুরে পাকসেনাদের ঘাঁটিতে আক্রমণ করেন। প্রচন্ড গোলাগুলির পর এক সময় প্রায় সামনা সামনি যুদ্ধের রুপ নেয় এবং সারারাত যুদ্ধ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের বেষ্টনী মধ্যে পড়ে যাওয়ায় প্রায় বিশজন পাকসেনা আহত হয় । এ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম পাকবাহিনীর গুলিতে শহীদ হলে স্বজনরা তার লাশ নিযে ফেরেন এবং কমান্ডার জনাব মুজাহিদউদ্দিন গুরুতর আহত হন।
নভেম্বরের শেষ দিকে পুনরায় ক্যাপ্টেন মুসলিমউদ্দিনের নেতৃত্বে তাহিরপুরে পাকসেনাদের ঘাঁটিতে হামলা হয়। এবার ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে আক্রমণ। ক্যাপ্টেন সিক্স পাউন্ড ওজনের বোমা পাক ঘাঁটিতে ফেলে তাদেরকে জানিয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধারা আ্ক্রমণে আসছে। কিন্তু কোনো প্রকার আক্রমন না করে দু’দিন বিরতি দিয়ে পাকসেনাদের বাঙ্কারে গ্রেনেড চার্জ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নির্দেশ দেন। মুক্তিসেনারা ক্রুলিং করে রাতের অন্ধকারে পাকসেনাদের বাঙ্কারে গিয়ে গ্রেনেড চার্জ করলে পাকসেনারা বাঙ্কার ছেড়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। এ পর্যায়ে জামালগঞ্জ থেকে পাকসেনারা লঞ্চভর্তি করে আরো সেনাবাহিনী্ এনে তাহিরপুর দখল রাখে সমর্থ হয়।
নভেম্বর শেষ দিকে পুনরায় ক্যাপ্টেন মুসলিম তাহিরপুর দখলের জন্য আক্রমণ চালান। পুরো দু’দিন বিরতিহীন যুদ্ধ চালিয়ে মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। অবরুদ্ধ পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী পদক্ষেপে ভীত হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে হঠাৎ করে তাহিরপুরের অবস্থান ছেড়ে জামালগঞ্জে চলে যায়। তারপর থেকেই তাহিরপুরে পুনরায় বাংলাদেশের পতাকা উড়তে দেখা যায়।
সোলেমানপুরে পাকসেনাদের স্পিডবোট ধ্বংস ও পাকসেনা হত্যা,পাকসেনারা তাহিরপুরে যাওয়ার পর প্রায়ই রাজাকারদের নিয়ে গ্রামে গিয়ে হাঁস-মুরগি ধরে নিয়ে আসত। তাহিরপুর অঞ্চলটি ভাটি এলাকা। ভাদ্র মাসে হাওর বিল অনেকটা শুকিয়ে গেলেও ছোট ছোট নদীতে পানি থাকে। পাকসেনারা ভাদ্র মাসের মধ্যভাগে চারটি স্পিডবোট ও রাজাকারদের সাথে নিয়ে সুলেমানপর গ্রামে আসে হাঁস-মুরগি ধরে নেয়ার জন্য। সুলেমানপুরে পাকসেনারা এসেছে জানতে পেয়র মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা পাকসেনাদের ফেরার পথে নদীর পাড়ে অ্যামবুশ করে বসে থাকে। সুলেমানপুরে হাঁস-মুরগি ধরে মনের আনন্দে যখন পাকসেনারা ফিরছিল ঠিক তখনই নদীর পার থেকে অতর্কিত মুক্তিযোদ্ধারা গুলি চালালে পাকসেনাদের চারটি স্পিডবোট ধ্বংস হয়। সে সাথে স্পিডবোটে থাকা পাকসেনারা মারা যায়। পাকসেনাদের এ বিপর্যয়ের খবর তাদের হেডকোয়ার্টারে পৌছতেই এম.এল শিবলী নামের লঞ্চে পাকসেনারা আসতে থাকে।
কিন্তু ততক্ষণে মুক্তিযোদ্ধা দলটি পরিণতির কথা ভেবে দৃষ্টির অনেক আড়ালে চলে যান। এ যুদ্ধে ইব্রাহিম খলিল(ইসলামপুর ধর্মপাশা) আবুল হোসেন (কালীপুর, জামালগঞ্জ),তোতা মিয়া (লম্বাবাক, জামালগঞ্জ), সোনাহর আলী (কালীপুর), বিলাল মিয়া (কালীপুর), আব্দুল বারিক (কালীপুর), মোস্তফা মিয়া (তাহিরপুর), সীতেশ চন্দ্র রায় (তাহিরপুর), গিয়াসউদ্দিন (তাহিরপুর), সুরুজ আলী (কিশোরগঞ্জ) প্রমুখ অংশগ্রহন করেন।
উল্যেক্ষ্য প্রমুখ ব্যক্তিগণদের অবদান মূখ্য ভুমিকা রেখেছিলো সেই সময়।
শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি দেশ – স্বাধীনতার লক্ষ্যে মুক্তিসংগ্রামে তাহিরপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম কমিটি নেতৃত্বদানকারি সভাপতি ও সম্পাদক এবং সেক্টর ও সাব সেক্টর প্রধান মহোদয়দেরকে, এবং বীর সদস্য প্রয়াত সর্বজনাব আব্দু জহুর এমপি এবং প্রয়াত আব্দুনুর আখঞ্জী মহোদয়সহ উনাদের সাথে সহযোগী আরো অন্যন্যা ব্যক্তিত্বগণদের। তার সাথে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি বীরসেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের যারা ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন উনাদের যেন মহান রাব্বুল আলামীন তাদেরকে জান্নাতবাসী করেন। এবং যারা এখনো জীবিত আছেন তাদের জন্য মহান স্রষ্টার কাছে দোয়া রইলো আল্লাহপাক যেন উনাদের নেক হায়াত দান করেন।
ডিসেম্বর প্রথম দিকে থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর সাথে লড়াইকরে পাকসেনাবাহিনীর দখল থেকে সুনামগঞ্জ এর বিভিন্ন অঞ্চল এবং তাহিরপুর এলাকা শত্রুমুক্ত করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তলন করেন।দেশ মাতৃকা রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয়ে এ অঞ্চলের দামাল ছেলেরা নিজেদের জীবনবাজি রেখে পাকিস্তানী পাক হানাদার বাহিনীর দখল থেকে তাহিরপুর অঞ্চলকে মুক্ত করেন। পরবর্তীতে পাকসেনারা সুনামগঞ্জ থেকেও তারা পালিয়ে যায় অতপর সুনামগঞ্জ অঞ্চল মুক্ত হয় তখন বীর মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন তৎক্ষনাৎ তাদের ধারা স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলিত করা হয়।

তথ্যসমাহারকারী লেখক : শওকত আখঞ্জী
উন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট।

তথ্যসুত্র :
রক্তাক্ত ৭১ সুনামগঞ্জ-বজলুল মজিদ খসরু।
টিএসএস(স্মারকগ্রন্থ )২০০৯,
এম,বি আলম।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২১ বার

[hupso]
Shares