সর্বশেষ

» নবীর চোখের পানি ।। জগলুল হায়দার 

প্রকাশিত: 03. November. 2020 | Tuesday

 

নবীর চোখের পানি
জগলুল হায়দার 

আরবজুড়ে আঁধার ছিলো বিশ্বজুড়ে ধাঁধা
মানবতা পুটলা করে ঘাড়েই ছিলো বাঁধা।
বুকের বিবেক লাশ করে সব পুড়তেছিলো চিতা
কন্যাশিশুর জ্যান্ত কবর দিচ্ছিলো তার পিতা।

সমাজজুড়ে হিংসা ছিলো প্রেম ছিলো না মোটে
সত্য কিতাব-বাণীর বসত আর ছিলো না ঠোঁটে।
গোত্রে গোত্রে লড়াই ছিলো রক্তে হোলি খেলা
অশ্লীলতায় ভরা ছিলো ভুলের ওকাজ মেলা।

সুদের বাজার গরম ছিলো মানুষ যেতো পিশে
দাসপ্রভুদের অত্যাচারে দাস পেতো না দিশে।
নারী নিছক পণ্য ছিলো লাগতো খালি ভোগে
তওহিদ ছিলো নির্বাসনে পুতুল পূজার রোগে।

ঠিক তখনই চাঁদের উদয় এমন তিমির রাতে
পূর্ণিমা যে নেমে এলো মা আমেনার হাতে।
সেই খবরই ছড়িয়ে গেলো মুহাম্মদের নামে
মরুর তারাও দেখতে তাকে সেই আকাশে থামে।

আসলো নবী হাসলো ধরা ভাসলো ভোরের আলো
হাজার বছর প্রতিক্ষাতে দূর হলো সব কালো।
সেই মুহাম্মদ সবার প্রিয় মরুদ্যানের পাখি
প্রাণে প্রাণে বেঁধে দিলেন শাহাদাতের রাখি।

কিন্তু কিছু শয়তানি কীট লাগলো তারই পিছে
আবু জাহেল আবু লাহাব নয় তো এসব মিছে।
আরো নানা স্বার্থ এসে যোগ দিলো সেই দলে
এতিম নবীর বুক পোড়ে আর চোখ ভেসে যায় জলে।

মক্কা তাকে দুঃখ দিলো তায়েফ দিলো দাগা
তবুও নবী বিলিয়ে গেলেন ভালোবাসার ভাগা।
কায়েম গেলো ভয় পেয়ে তাই ধরলো তাকে চেপে
আঘাত পেয়েও পাল্টা আঘাত দেননি তিনি ক্ষেপে।

মক্কা থাকা দায় হলো তাই ইয়াসরিবের পথে
ন্যায়ের মিছিল চললো শেষে দৃপ্ত দামাল রথে।
শান্তি দাতার আগমনে নূর মদিনা নাচে
নবীর আবেহায়াত নিয়ে তৃষিতজন বাঁচে।

মদিনাতে উম্মাহ হলো, সনদ হলো লেখা
ইহুদি আর খৃস্টানও পায় তাতেই পথের রেখা।
নবী হলেন রাষ্ট্রনায়ক সবার ভালোর তরে
যদিও তারা শেষকালে বেশ গাদ্দারিটাই করে।

কোরেশ কিন্তু হাল ছাড়েনি যুদ্ধ হলো বহু
বয়ে গেলো মরুর বুকে কত্ত মুমিন লহু।
খোদার বাণীর হার হলো না হারলো ওরাই শেষে
ফিরলো নবী মক্কাভূমি ফিরলো আপন দেশে।

হায় সে ফেরা! ইতিহাসে এমন কি আর আছে-
অস্ত্র ছাড়াই বিজয় হলো মক্কা নবীর কাছে।
শোধের বদল ছড়িয়ে গেলো নবীর ক্ষমার বাণী
মক্কা আহা! মক্কা আনে নবীর চোখে পানি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৪ বার

[hupso]
Shares