সর্বশেষ

» উপ-নির্বাচনে নৌকার কাণ্ডারী ইকবাল আল আজাদ এবং আমাদের প্রত্যাশা ।। মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর

প্রকাশিত: 02. November. 2020 | Monday

উপ-নির্বাচনে নৌকার কাণ্ডারী ইকবাল আল আজাদ এবং আমাদের প্রত্যাশা

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে স্থানীয় সরকার। আর এই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় যে কয়েকটি স্থর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি স্তর হচ্ছে উপজেলা পরিষদ। এই উপজেলা পরিষদের একটি সুনির্দিষ্ট গঠন কাঠামো রয়েছে। এই কাঠামো অনুসারে উপজেলা পরিষদের প্রধান হচ্ছেন একজন চেয়ারম্যান। যিনি প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে উপজেলার জনগণ কর্তৃক প্রতি পাঁচ বৎসর মেয়াদের জন্য একবার নির্বাচিত হন।

তাছাড়াও উপজেলা পদ্ধতির কাঠামো অনুসারে আরও দুটি ভাইস চেয়ারম্যানের পদও রয়েছে। তন্মধ্যে এজটি হচ্ছ পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানের পদ এবং অন্যটি হচ্ছে মহিলা ভাইস চেয়াম্যানের পদ। পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন পুরুষ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন মহিলা পরিষদের চেয়াম্যানের মত প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রতি পাঁচ বৎসর মেয়াদের জন্য একবার নির্বাচিত হন।

উপজেলা পরিষদের নিয়মানুসারে নির্ধারিত মেয়াদ পুর্তির আগে কোন চেয়াম্যান বা ভাইস চেয়াম্যানের মৃত্যু হলে, সুনির্দিষ্ট কোন কারণে পদত্যাগ করলে অথবা অন্য কোন কারণে পদত্যাগ করলে সেই আসন সমুহ শুন্য ঘোষিত হয়। উপজেলা পরিষদের আইনানুসারে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই শুন্য ঘোষিত আসনে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হয়।

নিয়মানুযায়ী ইতিপূর্বে সারা দেশের ন্যায় জামালগঞ্জ উপজেলাতেও পূর্ণ মেয়াদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এলাকার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ইউসুফ আল আজাদ যথা নিয়মে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু কিছু দিন পরেই জনাব ইউসুফ আল আজাদের আকস্মিক মৃত্যজনিত কারণে চেয়ারম্যান পদটি শুন্য ঘোষিত হলে নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন সেই শুন্য পদে নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করেন। কিন্তু করোনাজনিত কারণে সেই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে করোনা পরস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে নির্বাচন কমিশন আবারও নির্বাচনের আয়োজন করেন।

সেই নির্বাচনী তফসীল মোতাবেক গত ২০.১০.২০২০ ইং তারিখে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের শুন্য আসনে উপ নির্বাচন মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচন জামালগঞ্জ বাসীর জন্য ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। কেননা ঐ নির্বাচন ছিল জামালগঞ্জ বাসীর জন্য তাদের ভাগ্যোন্নয়নের চাকার গতি ও দিক নির্ধারণকারী নির্বাচন।

ঐ নির্বাচনে মোট চার জন প্রার্থী ছিলেন। একজন ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক মনোনীত ও আরেকজন ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কর্তৃক মনোনীত। বাকি দুই জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

মোট চার জন প্রার্থীর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় প্রার্থী ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন, এ দেশের মাটি ও মানুষের নায্য অধিকার ও দাবি আদায়ের নিমিত্তে গঠিত সংগঠন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশের গণমুখী সংগঠন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের চাকাকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সংগঠন, বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রিয় প্রাণের সংগঠন, বাংলাদেশ আওয়ানী লীগ মনোনীত, জামালগঞ্জের যুব অহংকার, জামালগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ নেতা, যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান ই্কবাল আল আজাদ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইকবাল আল আজাদ জামালগঞ্জের এক অতি পরিচিত মুখ, অতি প্রিয় মুখ। তিনি জামালগঞ্জের এক ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তার বাবা প্রয়াত ইউসুফ আল আজাদ ছিলেন এ দেশ ও মাটির একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন জামালগঞ্জ সদর ইউ/ পি ও উপজেলা পরিষদের বার বারে নির্বাচিত জন নন্দিত চেয়ারম্যান। তিনি ছিলেন জামালগঞ্জের মাটি ও মানুষের প্রাণ প্রিয় নেতা, সরল সহজ, সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল ও নিরহংকারী এক জননেতা। সেই ইউসুফ আল আজাদের হাতে গড়া, তারই গুণে গুনান্বিত তার সুপ্রিয় সন্তান ও সুযোগ্য উত্তরসুরী ইকবাল আল আজাদ।

ইকবাল আল আজাদের নির্বাচনী প্রতীক ছিল আবহমান বাংলার প্রতীক, ভাটি বাংলার মানুষের অতি পরিচিত প্রতীক নৌকা। এই প্রতীক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় নির্বাচনী প্রতীক, এই নৌকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীক, এই নৌকা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। এই নৌকা আমাদের মহান স্বাধীনতার প্রতীক। এই নৌকা জন নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক। এই নৌকা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক।

তাই আমরা দেখতে পাই যে গত ২০.১০.২০২০ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত জামালগটঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে উন্নয়নশীল বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল, ভাটি বাংলার অন্যতম ভাটির জনপদ, হাওর বেষ্টিত গ্রাম বাংলা, আধুনিক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত জামালগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নের জন্য, জামালগঞ্জের বর্তমান উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য, জামালগঞ্জ বাসীর ভাগ্যোন্নয়নের চাকাকে টেনে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, জামালগঞ্জ বাসীর প্রিয় মুখ, প্রয়াত চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য, সর্বোপরি উন্নয়নের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা জামালগঞ্জে চলমান রাখার জন্য তারা দলমত নির্বিশেষে নৌকার কাণ্ডারী ইকবাল আল আজাদকে মনে প্রাণে সমর্থন দিয়েছে। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ইকবাল আল আজাদের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা মার্কায় তাদের মহা মূল্যবান ভোট প্রদান করে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর চেয়ে বিশ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে জয়ের মালা ছিনিয়ে এনেছে, তার কণ্ঠে পরিয়ে দিয়েছে এবং তাকে তারা উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে।

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে,ভাটি বাংলার হাওর বেষ্টিত জামালগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে একটি বিশাল উপজেলা। তদোপরি শরৎ কাল। চারিদিকে হাওর ভরা প্রচুর পানি। এমতাবস্থায় এই সীমিত সময়ের মধ্যে নৌকার কাণ্ডারী ইকবাল আল আজাদের পক্ষে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি ভোটারের কাছে স্বশরীরে গিয়ে উপস্থিত হয়ে ভেট প্রার্থনা করা,ভোট সংগ্রহ করা মোটেই সম্ভব ছিলনা।

তাই ঐ নির্বাচনে আমরা ইকবাল আল আজাদের নির্বাচনী কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্খী, সর্বোপরি নির্বাচন পরিচালনাকারী ও নীতি নির্ধারণকারীদের মধ্যে এক ধরণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও নির্বাচনী কৌশল অবলম্বন জরতে দেখেছি। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, ইকবাল আল আজাদের প্রতিটি কর্মী প্রত্যেকেই নৌকার একটি ব্যানার হয়ে, একটি পোষ্টার গয়ে, একটি লিফলেট হয়ে, নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রামে গিয়ে, প্রতিটি ঘরে গিয়ে, প্রতিটি ভোটারের কাছে গিয়ে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনের সর্বাধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা করেছে, ভোট সংগ্রহ করেছে, নৌকায় ভোট প্রদান নিশ্চিত করেছে এবং সর্বোপরি নৌকার বিজয় অর্জন করেছে। এইভাবে নৌকার বিজয় নিশ্চিতের মাধ্যমে তারা ভাটি বাংলায় নির্বাচনী ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও অনুস্মরণীয় নজির স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ও নৌকার কাণ্ডারী ইকবাল আল আজাদের এই বিরাট বিজয়ের মাধ্যমে জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এম পি ও জনাব এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার এম পি এর জনপ্রিয়তা তাদের নির্বানী এলকায় নিশ্চিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আমরা মনে করি এবং আগামীতে ও আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে তাদের নির্বাচনী এলাকায় তাদের রাজনৈতিক হাত শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষতে আরও শক্তিশালী হবে। এই নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে তাদের কর্মী ও সমর্থকদের আত্ম বিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তাদের দলীয় কর্ম কান্ড আরও সুসংহত ও সুসংগঠিত হবে। সর্বোপরি কেন্দ্রে তাদের রাজনৈতিক ইমেজ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

নৌকার এই বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে একটা বিষয় আবারও প্রমাণীত হল যে, জামালগঞ্জের মাটি, জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘাটি। জামালগঞ্জের মাটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘাটি। জামালগঞ্জের মাটি সাংসদ এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ারের ঘাটি। জামালগঞ্জের মাটি মোয়াজ্জেম হেসেন রতন এম পি এর ঘাটি।

ইকবাল আল আজাদ জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা তাকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। তার আগামী কর্মময় দিনগুলো হোক সুন্দর ও সাফল্যময়।

জামালগঞ্জ হচ্ছে ভাটি বাংলা সুনামগঞ্জের একটি হাওর বেষ্টিত অনুন্নত ও অবহেলিত উপজেলা। স্বাধীনতার প্রায় পঞ্চাশ বৎসর অতিবাহিত হতে চললেও এখানকার মানুষ এখনও তার পুরোপুরি ফল ভোগ করতে পারেনি। এখানে এখনও কাঙ্খিত উন্নয়ন সাধিত হয় নাই। সময়ের তুলনায় এই এলাকা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষিসহ নানামুখী সমস্যা এখানে বিরাজমান। এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। তাই সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে একটি মাষ্টার প্ল্যান তৈরী করে এখানকার উন্নয়ন কর্ম কাণ্ড পরিচালনা করে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে যোগদান করা দরকার। এলাকাবাসী তাই প্রত্যাশা করে।

আর তাই আমরা প্রত্যাশা করব, আমাদের নব নির্বাচিত উপজলা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বাংলাদেশের সুযোগ্য প্রধান মন্ত্রী, উন্নয়নের নেত্রী, মানবতার জননী, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের আধুনিক, গতিশীল ও ডিজিটাল নেতৃত্বে, জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এম পি ও এডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার এম পি এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা, সার্বক্ষণিক পরামর্শ নিয়ে এবং এলাকার উন্নয়নকামী জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করবেন, সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। তার কার্যালয় বিশেষ কোন ব্যক্তি বা দলের কার্যালয় না হয়ে তা হবে তার নির্বাচনী এলাকার দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের আশ্রয় স্থল, ব্যাথা বেদনা, সুখ দুঃখ, অভাব অভিযের কথা ব্যক্ত করার নিরাপদ ঠিকানা, লাঘব করার যাদুকরী ঠিকানা। তিনি সবাইকে ভাল বাসবেন, সবার ভালবাসা পাবেন, ভালবেসে সবার মন জয় করবেন

তিনি একজন গতিশীল ও সময়োপযোগী নেতার পরিচয় দিবেন বলে আমরা আশা করি। তিনি তার গতিশীল ও সময়োপযোগী নেতৃত্বের মাধ্যমে তার নির্বাচনী এলাকার সার্বিক সমস্যা সমাধান ও নির্বাচনী ওয়াদা পুরণের মাধ্যমে অত্র উপজেলাকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত মডেল উপজলায় পরিণত করবেন বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করে।

মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর

সহকারী অধ্যাপক, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ। সমন্বয়কারী, বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ সিলেট।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৬ বার

[hupso]
Shares