সর্বশেষ

» বাংলাদেশে গ্রাম উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এন,জি,ও’দের অবদান ।। শওকত আখঞ্জী

প্রকাশিত: 30. October. 2020 | Friday

বাংলাদেশে গ্রাম উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এন,জি,ও’দের অবদান

✒️শওকত আখঞ্জী

বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক গ্রাম প্রধান দেশ। আটষট্টি হাজারেরও অধিক গ্রাম নিয়ে এই আমাদের সোনার সুফলা বাংলাদেশ। মোট গ্রামীণ এলাকা প্রায় ৪১,৬৫২ বর্গমাইল, জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগই এখনো গ্রামে বাস করে।এদেশের অর্থনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রাম এবং কৃষি নির্ভর, গ্রামের উন্নতি হচ্ছে বলেই দেশের অর্থনীতির অর্থনৈতিক চাকার উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে, দেশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের পথে ধাবিত যা হবেই একদিন।

গ্রাম উন্নয়নকল্পে সরকারি প্রতিষ্ঠান : স্বাধীনতা পর থেকে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবাকার্যের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, সমাজ কল্যাণ, শিক্ষা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, যুব ও ক্রীড়া, স্থাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গুলার মাধ্যমে নানা কার্যক্রম গ্রহন করে দেশ উন্নয়নে তথা পল্লী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

গ্রামীণ উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের অবদান : গ্রাম উন্নয়নে সরকারি কার্যক্রমের সাথে সাথে কাঁধে কাধ মিলিয়ে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সমূহ অংশগ্রহণ করে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান সংস্থা অধিকাংশ বিদেশী দাতা সংস্থার সাহায্যপ্রাপ্ত।
আবার কতো গুলো সংস্থা স্থানীয় অনুদান লাভ করে গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করে দেশমাতৃকার উন্ময়নে সম্পৃক্ত। এ সব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, চিকিৎসা, শিশু কল্যাণকর, রাস্তাঘাট নির্মাণ,দারিদ্র্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণ ও পুর্নবাসন পরিচালনা কাজে সহায়তা প্রদান করে গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

যে সব বেসরকারি সংস্থা উন্নয়নে কাজ করে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
🔹বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি,
🔹বাংলাদেশ রুরাল এডভান্সমমেন্ট কমিটি(ব্র‍্যাক)
🔹বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ,
🔹বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট(ব্লাস্ট)
🔹ঢাকা আহসানিয়া মিশন।
🔹পল্লী মঙ্গল কেন্দ্র।
🔹এসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল এডভান্সমেন্ট (আশা)।
🔹প্রশিকা মানব উন্নয়ন সংস্থা।
🔹এডাব, ইত্যাদি।

বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক যে সব সংস্থা সহযোগীতা করে তাদের মধ্যে উল্লেখ্য কিছুর মধ্যে, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ফাও,হো,আইএলও,আইএমএ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী ইত্যাদি।
হাওর অঞ্চল ঘেরা বাংলাদেশ’ আর বাংলাদেশের জেলা গুলোর মধ্যে ৭টি জেলার ৩৪টি উপজেলায় হাওর অঞ্চল রয়েছে। জনসংখ্যায় দিক থেকে যদি মুল্যায়ন করি? তাহলে হাওর অঞ্চল তার প্রধান, মোট জনসংখ্যার ৭ভাগের এক ভাগ হাওরপারে অবস্থান, হাওর পারের জনসংখ্যা হলো প্রায় ২কোটি।
আমরা যদি জাতীয়ভাবে উন্নতির কথা বলি তাহলে হাওর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নতি রেখে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়!
টিলা বেষ্টিত, সিলেটের ভেতর দিয়ে নদী বহমান : সুরমা- কুশিয়ারা প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সিলেট অঞ্চল। সিলেট অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে সক্ষম। বাংলাদেশের অর্থনীতির আয়ের অন্যতম উৎস হল রেমিট্যান্স, এই সিলেট অঞ্চলের মানুষজনের একটি বড় অংশ বিভিন্ন দেশের অধিবাসী। ২০১০ সালের অভিবাসীদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই অঞ্চলের আরেকটি অন্যতম অর্থকরী ফসল চা,যার মোট উৎপাদনের ৭০-৮০ শতাংশ সিলেটেই উৎপাদিত হয়। সিলেট অঞ্চলের হাওর থেকে উৎপাদিত খাদ্যাংশ মোট খাদ্য শস্যের ৩০ শতাংশ সরবরাহকারী এই অঞ্চল, সেই সাথে মৎস এবং পাথর থেকে উপার্জিত অর্থ জাতীয় আয়ে যোগ হয়। সিলেট অঞ্চলে রয়েছে জ্বালানী গুরুতপুর্ন গ্যাস ও খনিজসম্পদ যার দৈনন্দিন কাজেকর্মে ব্যবহৃত হয় তাই এ অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্ভাবনাময় বৈশিষ্ট্যময় এই সিলেট অঞ্চল পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্ময়নের কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলা ও সমাধানের কথা যথাসময়ে ভাবতে হবে। যেমন : খাদ্যদ্রব্য নিরাপত্তা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবংউন্নতি, পরিবেশ বিপর্যস্ততা থেকে মুক্তি, দারিদ্রমুক্ততা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ব্যবস্থায় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ইত্যাদি ব্যবস্থাদি উন্নয়ন হলে সিলেট অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে। সিলেট অঞ্চলের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্যাবলীর উল্লেখ্য হাওর অঞ্চল, হাওর উন্নয়ন বোর্ডের মতে বাংলাদেশে ৩৩৭টি হাওরের মধ্যে ৮০ ভাগ হাওর সিলেট অঞ্চলে রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা ভেবে সিলেটী যে সব উন্নয়ন সংস্থা গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য= এফআই ভিডিবি, সীমান্তিক, ভার্ড, যুবএকাডেমী, জেসিস, আইডিয়া, গউস, এসেসকেস,
একডো, স্র‍্যাক, ইত্যাদি এই সংস্থা গুলা সিলেট এর গ্রামীণ উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের মাথাপিছুআয় কম, জীবন যাত্রার মান নিম্ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি কৃষির ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে তার সাথে আবার অকাল বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তার জন্য কৃষির উপর মানুষজন আস্থাহীন, তাই এই অঞ্চলের মানুষজন কর্মক্ষম হয়ে পরে আছে, তার ফলে বেকারত্ব সমস্যা দিন বাড়ছে তার জন্য সিলেট গ্রামীণ উন্নয়নে সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি উন্নয়নশীল সংস্থা গুলাকে অনুরোধ রাখছি গ্রামীণ উন্নয়নে আরো বেশী করে মনোযোগী হন সহযোগীতার হাত প্রশস্ত করে দেন।

লেখক
শওকত আখঞ্জী
কবি ও উন্নয়নকর্মী।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৪ বার

[hupso]
Shares