সর্বশেষ

» সিলেট এম সি কলেজ ছাত্রাবাসে নব বধু ধর্ষণ : এ লজা আমার, এ লজ্জা আমাদের সকলের

প্রকাশিত: 28. October. 2020 | Wednesday

সিলেট এম সি কলেজ ছাত্রাবাসে নব বধু ধর্ষণ : এ লজা আমার, এ লজ্জা আমাদের সকলের

“আমি চিৎকার করিয়া কাঁদিতে চাহিয়া,
করিতে পারিনি চিৎকার।
বুকের ব্যাথা বুকে চাপায়ে,
নিজকে দিয়েছি ধিক্কার।”

বৃহত্তর সিলেটে যে কয়টি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল বৃহত্তর সিলেটের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত,সিলেটের অতি সুপ্রাচীন,ঐতিহ্যবাহী উচ্চ বিদ্যাপীঠ সিলেট এম সি কলেজ। সিলেটের অন্যতম জ্ঞান অর্জনের আধার, বিদ্যার্জনের সুতিকাগার, জ্ঞানের আলো বিতরণ কারী আলোক বর্তিকা এই এম সি কলেজ। এটি সিলেটের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এটি সিলেটবাসীর গর্ব, সিলেটবাসীর অহংকার। সভ্য জগতে, বাহিরের জগতে সিলেটের অন্যতম পরিচিতি।

সিলেটের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একটি অতি পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্টান। অনেক যুগ, অনেক কালের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে সিলেটের এই সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন কারী প্রতিষ্ঠানটি। ১২৮ বৎসরের ঐতিহ্যের স্বারক হিসেবে, সুনাম ও গৌরবের ধারক ও বাহক সিহেবে, দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশে, হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ পরাণসহ ৩৬০ আাউলিয়ার পুণ্য ভূমি সিলেটের এই পবিত্র মাটিতে সুন্দর সুন্দর অট্টালিকা নিয়ে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঢালি মাথায় নিয়ে মাথা উঁচু করেে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের গর্বের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমাদের এই পূণ্যভূমি সিলেটে ফল্গুধারার মত জ্ঞান বিতরণ করে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই সুপ্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই বিতরণকৃত জ্ঞান সাগরে অবগাহন করে আমরা হচ্ছি ধন্য, আমরা হচ্ছি গর্বিত, আমরা হচ্ছি পবিত্র। জ্ঞানের এই আধার থেকে জ্ঞান আহরণ করে আমরা হচ্ছি জ্ঞান গরিমায় সমৃদ্ধ, দেশ ও জাতি হচ্ছে উন্নত। দেশে তৈরী হচ্ছে একটি কর্মক্ষম ও উপার্যনক্ষম মানব সম্পদ। যা পার্থিব সকল সম্পদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

মানুষ গড়ার কারখানা ঐতিহ্যবাহী এই এম সি কলেজর আরেকটি অঙ্গ হচ্ছে বৃটিশ শাসনামলের তৈরী অতি শৈল্পিক ও ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজ ছাত্রাবাস। এটি সিলেটের একটি অতি সুন্দর, দর্শনীয় ও ব্যতিক্রমভাবে নির্মিত ছাত্রাবাস। দেশে বিদেশে এর সুনাম ও ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে, স্মৃতি হয়ে আছে এখানকার শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের মণিকোঠায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্মাণ শৈলীর দিক দিয়ে ও এটি একটি দর্শনীয় স্থান। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি মানুষের নয়ন কাড়ে, পথিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার কাছে টেনে নেয় সৌন্দর্য প্রিয় মানুষগুলেকে। তাই বলা যায় সিলেটের এম সি কলেজ ও তার নান্দনিক ছাত্রাবাস সিলেটের অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র। সিলেটের বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চলের সৌন্দর্য পিপাসুরা যখন পর্যটন নগরী সিলেটে বেড়াতে আসে, অবসর সময় কাটাতে আসে, তখন সিলেটের সৌন্দর্যমন্ডিত যায়গা গুলো দেখার পাশা পাশি সিলেটের এই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী এই দুটি প্রতিষ্টান ও দেখে যায়। তাছাড়া সিলেটের স্থানীয় লোকেরা বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা এখানে প্রায়ই আসে তাদের স্বপ্নের এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে একবার পরিদর্শন করতে। এতে একদিকে যেমন তারা তাদের অবসর সময় কাটায় ও আনন্দ পায়, তেমনিভাবে সিলেটের সুনাম ও মর্যাদা তাদেের কাছে অারও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

এই ছাত্রাবাস বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলাদেশের বহু জ্ঞানী গুণী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের স্বপ্নপুরণের ঠিকানা, তাদের স্মৃতির ঠিকানা, স্মৃতি রোমন্থনের ঠিকানা। এইখানে লেখা
পড়া করে, এই খানেই জ্ঞান সাধনা করে, এই খানের জ্ঞান সাগরে ডুব দিয়ে অবগাহন করে পুতপবিত্র হয়ে অাজ অনেকেই ধন্য। এখানে অবস্থান করে, এখানে ঘুমিয়ে, এখানকার খাদ্য খেয়ে, এখানে খেলাধুলা করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আত্ম প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজ দেশে বিদেশে সিলেটের সুনাম ও গৌরব ছড়াছে। যার মাধ্যমে সিলেটের জনগণের সুনাম ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইখানকার অনেক সতীর্থরাই আজ বাংলাদেশের সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুযোগ্য স্থানে সুনামের সহিত অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করছে। এদের মাঝে অনেকেই আবার দেশের ও সরকারের নীতি নির্ধারক ও চালিকা শক্তি হয়ে কাজ করছে। অনেকেই আবার এই দেশের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বিভিন্ন পর্যায়ে অবস্থান করে নেতৃত্ব দিয়ে সিলেটের সুনাম বয়ে বেড়াচ্ছে।

সিলেটের শতাধিক বৎসরের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসের চেহারা আজ ভীবৎস। তার ঐতিহ্যের আলো আজ ম্লান হয়ে গিয়েছে। তার দেহ আজ ক্ষতবিক্ষত, তার দেহে আজ কলংকের দাগ অঙ্কিত হয়েছে। তার পবিত্র দেহ আজ কালিমাযুক্ত। তারই পবিত্র মাটিতে আজ সিলেটের ইতিহাসের নক্কারজনক ঘটনটি ঘটেছে। এই প্রতিষ্ঠানেরই পবিত্র ও নির্মল মাটিতে কিছু দিন আগে এক দর্শনার্থী নব বধু গণধর্ষণের শিকার হয়েছ। এই ছাত্রাবাস আজ অপবিত্র, এই ছাত্রাবাস আজ কলংকিত। এই ছাত্রাবাসের আকাশচুম্বী সুনাম ও সুখ্যাতি আজ ভূলুন্ঠিত, ধরাশায়িত।

আমরা মনে করি এই ঘটনার মধ্য দিয়ে শুধু একজন নব বধুই ধর্ষিত হয় নাই, ধর্ষিত হয়েছে আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজ ছাত্রাবাস, ধর্ষিত হয়েছে আমাদের পবিত্র ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ এম সি কলেজ, ধর্ষিত হয়েছে আমাদের আবেগ ও ভালবাসা ,ধর্ষিত হয়েছে আমাদের বিবেক,ধর্ষিত হয়েছে আমাদের সিলেটের দীর্ঘ দিনের অর্জিত সুনাম ও ঐতিহ্য, ধর্ষিত হয়েছে আমাদের সিলেটের পবিত্র মাটি।

আমি এই ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং সেই সাথে এই কলেজের একজন শুভাকাঙ্খি ও বটে। আশির দশকে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে অন্যান্য সৌভাগ্যবান ছাত্রছাত্রীদের মত আমিও এই উচ্চ বিদ্যাপীঠে প্রবেশ করেছিলাম জ্ঞানার্জনের জন্য। স্বপ্নের এই জ্ঞান সাগরে আমিও অবগাহন করে কিছু বিদ্যার্জন করে ধন্য হয়েছি। আার সেই সুবাদেই হয়তো আমি আজ একটি সরকারি কজের একজন শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। আর তাই আমি ও এ প্রতিষ্ঠানের ভালমন্দের একজন ক্ষুধে অংশীদার।

এই নারকীয়,পশুসুলভ ও নক্কারজনক ঘটনায় আমি লজ্জিত, আমি স্তম্ভিত, আমি মর্মাহত। লেখার ভাষা আমি বার বার হারিয়ে ফেলছি। লেখার সময় আমার হাত, আমার কলম চলছিলনা। বার বার চোখের কোনায় পানি জমেছে। চোখ আমার ঝাপসা হয়ে এসেছে। নিজের অজান্তেই বার বার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়েছে। বার বার লেখার কাগজে অশ্রুপাত হয়েছে। হৃদয়টা যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল। সেই সাথে বার বার এর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিলাম। কিন্তু আমার মত একজন কলেজ শিক্ষকের একার পক্ষে কিইবা আর করার আছে অন্তত আমাদের ঐই দেশের সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে। তবে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক সাথে রুখে দাঁড়ালে অবশ্যই একটা কিছু করার আছে। তাই বার বার নিজেকে শুধু ধিক্কার দিয়েছি।

মানুষ নামধারী কিছু কুলাঙ্গার ও হায়ানাদের এই গণধর্ষণের হাত থেকে, এই নরপশুদের লালসা থেকে আমি এবং
আমরা নব বধুকে রক্ষা করতে পারি নাই, তার ভ্রমনের নিরাপত্তা দিতে পারি নাই, তার এই ছাত্রাবাস ভ্রমনকে আমরা আনন্দ দায়ক করে তুলতে পারি নাই। তার লজ্জা নিয়ে নিরাপদে তাকে তার গৃহে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ করে দিতে পারি নাই। অক্ষত অবস্থায় তাকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে আমরা পারি নাই। এই লজ্জা, এই ব্যর্থতা, এই অক্ষমতা একজন মুরারিয়ান হিসেবে আমার, ,আমাদের সকলের,আমরা সিলেট বাসীর,আমাদের এই অনিরাপদ সমাজ ব্যবস্থার, প্রশাসন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার।

এই ছাত্রাবাস আসলে সবসময় নিরাপদ ছিলনা। আমরা সর্বদা তার পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারি নাই। আমরা তার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারি নাই। আমরা তার সুনাম ও সুখ্যাতিকে বজায় রাখতে পারি নাই। তার অতীতের সুমহান গৌরব ও অহংকারকে অক্ষুন্ন রাখতে পারি নাই। অতীতেও এই ছাত্রাবাসে আগুন জ্বলেছে, এই ছাত্রাবাস অগ্নিদগ্ধ হয়েছে, ঐ ছাত্রাবাসের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এই ছাত্রাবাসের চেহারা ম্লান হয়েছে। তার সৌন্দর্যের হানি ঘটেছে। কিন্তু এর সুবিচার হয় নাই। ছাত্রাবাস তার নায্য বিচার পাই। আমরা এর সুবিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছিি। বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কেঁদেছে। সঠিক বিচারের চেষ্টাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যদি সেদিন এর সত্যিকারের বিচার হত, যদি সত্যিকার আসামীরা ধরা পড়ত, যদি তারা শাস্তি ভোগ করত তাহলে হয়ত অপরাধীরা মনে মনে ভয় পেত। তাদের অপরাধের মাত্রা হয়ত কমে যেত। আজ পুনরায় এই ধরণের ঘটনা হয়ত নাও ঘটতে পারত।

অবশ্য এই ঘটনার পরপরই সমগ্র সিলেট শহরে,শহরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সিলেটের সুশীল সমাজ এগিয়ে এসেছে। সিলেটের ছাত্র শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবি, বুদ্ধিজীবি, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদের মিছিলে শামিল হয়েছে, এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। এম সি কলেজ, এম সি কলেজের ছাত্রাবাস ও চৌহাট্টাস্ত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সিলেটের সর্বমহলের মানুষের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতিতে বিশাল বিশাল মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও এই ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে ও গুরুত্ব সহকারে পালন করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে।

এই ঘটনার পর পরই শুধু কেবল সিলেট সহ দেশের অভ্যন্তরের মানুষই আহত, ব্যথিত ও স্তম্ভিত হয় নাই, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক কর্মচারী ও শুভাকাঙ্খীরাও ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছে। তাদের হৃদয়েও এই ঘটনায় রক্ত ক্ষরণ হয়েছে। তাদের অবস্থান থেকে তারাও নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, প্রতিবাদের মিছিলে শামিল হয়েছে।

অবশ্য এই নক্কারজনক ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই সিলেটের অাইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে এবং সাথে সাথে তারা ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিকারের ব্যবস্থা করেছে। অাইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ঘটনার ব্যাপারে তাৎক্ষনিক মহুর্তে যে ভামিকা পালন করেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। তারা অতি দ্রুততম ও স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রায় সকল দোষী ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সাথে সাথে তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই ব্যাপারে আরও প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ ভামিকা পালন করেছে আমাদের সিলেট জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইন জীবি সমাজ। এম সি কলেজের ছাত্রাবাসের এই নারকীয় ও পৈশাচিক ঘটনার সাথে জড়িত মানুষরুপী জানোয়ারদের বন্দী করে যখন সিলেট জজ কোর্টের কাঠগড়ায় বিচারকের সামনে হাজির করা হয়, তখন সিলেট জজ কোর্টের কোন আইনজীবিই তাদের আইনী সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তাদের পক্ষে এজলাসে দাঁড়ায় নাই। এটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের এক নীরব প্রতিবাদ। তাদের এই ভূমিকা সিলেটের সর্ব মহলে এমনকি সমগ্র বাংলাদেশে প্রশংসিত হয়েছে। আমরাও তাদের সাধুবাদ জানাই।

এভাবে আর চলতে পারেনা, এভাবে চলতে দেওয়া যায়না। আসুন আমরা সবাই, সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হই।আসুন আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাই এগিয়ে আসি। অপরাধী যেই হোক, যে দলেরই হোক, তাকে ক্ষমা না করে তাকে বিচারের আওতায় আনি, তার প্রাপ্য সাজা নিশ্চিত করি, অপরাধ দমনে আমাদের সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করি, অনাগত ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ি।

আসুন আমরা সবাই মিলে এর প্রতিকার চাই, এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াই। প্রতিবাদের মিছিলে সবাই আসুন এক কাতারে শামিল হয়ে কলুষিত ও অনিরাপদ এই সমাজকে আমাদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলার উপযোগী করে গড়ে তোলার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করি। এই ধরণের কলঙ্কিত ও পৈশাচিক ঘটনার
উপযুক্ত বিচার চাই। আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী স্বপ্নের এম সি কলেজকে, এম সি কলেজ ছাত্রাবাসকে রক্ষা করতে হবে, এর সুনাম ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে। এর সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। নতুবা আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা দায়ী হয়ে থাকব। অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মোটেই ক্ষমা করবেনা, ক্ষমার চোখে আমাদের দেখবেনা।

মোঃ দিলওয়ার হোসেন বাবর
সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ,
গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ।
সমন্বয়কারী
বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ
সিলেট।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬০ বার

[hupso]
Shares