সর্বশেষ

» গল্প ।। অপ্রাপ্তির শোক ।। শাহারা খান (যুক্তরাজ্য প্রবাসী)

প্রকাশিত: 23. October. 2020 | Friday

গল্প ।। অপ্রাপ্তির শোক
শাহারা খান (যুক্তরাজ্য প্রবাসী)

সালমার সাথে স্বামী জয়নালের বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় দশবছর। দরিদ্র পিতা শিক্ষিত ছেলে, স্বচ্ছল পরিবার দেখে বিয়েতে রাজি হয়ে যান।
জয়নাল তার সংসারের বড় ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের সব দায়িত্ব পড়ে তার উপর। অসুস্হ মা, চার ভাই বোনের লেখাপড়া সব তাকেই দেখতে হয়।বাবার আমলের তিনতলা বাড়ি আর কয়েক বিঘা জমি ছিল। সেইসাথে নিজের সরকারী চাকুরি।এক এক করে জয়নাল ভাইদের লেখাপড়া শেষ করিয়ে, চাকুরির ব্যবস্হা করলো। বোনদের ভালো ঘর দেখে বিয়ে দিলো। সবার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে নিজের দিকে তাকানোর ফুরসত হয়নি জয়নালের। চল্লিশ উর্ধো বয়সের পর নিজে বিয়ে করলো। তারপর একদিন মা পরপারে পাড়ি দিলেন।

বিয়ের ৫/৬ বছরের মাথায় সালমার দুইটি কন্যা সন্তান হলো।এদিকে সারা জীবনের পরিশ্রম, টেনশনে জয়নালের শরীরে নানান অসুখ শুরু হলো। ডায়বেটিস, প্রেসার, কিডনী ডেমেইজ।চাকুরি থেকে পেনশন নিতে হলো। ছোট ভাইয়েরা বিয়ে করে, বউ নিয়ে আলাদা হয়ে গেলো।আজ জয়নাল সবার বোঝা। ভাই বোন কেউ তার খবর নেয়না। বাধ্য হয়ে সংসার চালাতে স্ত্রী সালমাকে একটা প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষকতার চাকুরি নিতে হলো। অনেক কষ্টে স্বামীর চিকিৎসার খরচ তাকে চালাতে হচ্ছে।

জয়নাল ভাই বোনদের অনেক বার বলেছে সম্পত্তির ভাগ বাটোরা করতে।কেউ তাতে পাত্তা দেয়নি। কারণ তারা বুঝেই নিয়েছে,অসুখ যেভাবে জয়নালকে দিনে দিনে কাবু করছে, বেশিদিন বাঁচার সম্ভাবনা তার নেই। তাছাড়া জয়নালের কোন ছেলে সন্তান নেই। সুতরাং পুরো সম্পদ তারাই ভোগ করবে। তারপর একদিন জয়নাল বউ বাচ্চাকে অকূলে ভাসিয়ে চলে গেলো অপারে।সালমার জীবনে নেমে এলো শোকের ছায়া। একেতো অল্প বয়সে বিধবা, তার উপর দুইটি মেয়ে।বাবার বাড়ি ফিরে যাওয়া তো সম্ভব নয়। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সালমা স্বামীর ভিটে আঁকড়ে পড়ে রইলো। কষ্ট করে মেয়েদের মানুষ করলো।
জয়নাল ভাই-বোনের জন্য এত করলো। অথচ তার বউ বাচ্চার দিকে আজ কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। জয়নাল খুব ন্যায় বিচারী এবং দানশীল ছিলো।। পাড়ায় তার একটা সুনাম আছে এই ব্যাপারে। অথচ তার বউ বাচ্চা ন্যায় বিচার পেলোনা।

জয়নালের কন্যা দুটো যেমন দেখতে শুনতে, তেমনি স্বভাব চরিত্র। বিয়ের উপযুক্ত হতে না হতেই ভালো ঘর থেকে বিবাহের আলাপ আসা শুরু করলো।সালমা কাল বিলম্ব না করে, বাবার বাড়ির সহযোগিতায় দুটো মেয়েকেই বিয়ে দিয়ে দিলো।
মেয়ে দুটো খুবই সুখে আছে। দুজনই আমেরিকা থাকে। মাকে তাদের কাছে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। ছেলে সন্তান না পেলেও, সালমা দুই জামাইকে পেয়েছে ছেলের চেয়েও বেশি।সবসময় তারা শাশুড়ির খবরাদি রাখে।
সালমা হয়তো একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ আমেরিকায় চলে যাবে। মেয়েদের সাথে সুখময় জীবন কাটাবে। কিন্তু প্রাপ্তির চেয়ে,তার জীবনের যে অপ্রাপ্তি ছিল তা কি সে কোন ভুলতে পারবে?

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯২ বার

[hupso]
Shares