সর্বশেষ

» হাসন রাজাকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত তথ্য সমাহার ।। আমার সিলেট বিডি ডটকম

প্রকাশিত: 09. October. 2020 | Friday

হাসন রাজাকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত তথ্য সমাহার ।। শওকত আখঞ্জী

দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী
পিতার নাম : দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী
তিনি ছিলেন প্রতাপশালী জমিদার
মাতার নাম : হুরমত জাহান বিবি

হাসন রাজার জন্ম ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর। দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী ৬৭ বছর বয়সে ৬ই ডিসেম্বর ১৯২২ সালে তিনি পরলোক গমণ করেন।
দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী।

তিনি সিলেট জেলার অন্তর্গত সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণছিরি (লক্ষণশ্রী) পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী তিনি মূলত জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন।

হাসন রাজার পিতা দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী তিনি তার খালাতো ভাই আমির বখ্‌শ চৌধুরীর নিঃসন্তান বিধবা হুরমত জাহান বিবিকে পরিণত বয়সে বিয়ে করেন। হুরমত জাহান বিবির গর্ভেই দেওয়ান হাসন রাজার চৌধুরীর জন্ম হয়।

দেওয়ান হাসন রাজার পিতা দেওয়ান আলী রাজা তাঁর অপূর্ব সুন্দর বৈমাত্রেয় ভাই দেওয়ান ওবেদুর রাজার পরামর্শ মত তাঁরই নামের আকারে মিলকরণ করে তাঁর নামকরণ করেন অহিদুর রাজা। আর হাসন রাজা নামকরণ করেন তৎকালীন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার অফিসের নাজির আবদুল্লা বলে এক বিখ্যাত ফার্সি ভাষাভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মতে তাঁর নামকরণ করা হয়- হাসন রাজা। জানা যায় বহু দলিল দস্তাবেজে হাসন রাজা আরবি অক্ষরে নাম দস্তখত করেছেন- হাসান রাজা।

দেওয়ান হাসন রাজা তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত,তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় সহস্রাধিক গান রচনা করেন।
জমিদার দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী তিনি উত্তারিধাকার সূত্রে বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক ছিলেন।

জানা যায় দেওয়ান হাসন রাজার পূর্ব পুরুষেরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন!তাঁদেরই একজন বীরেন্দ্র চন্দ্র সিংহদেব মতান্তরে বাবু রায় চৌধুরী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। হাসন রাজার পুর্ব পুরুষের অধিবাস ছিল অয্যোধ্যায়। সিলেটে আসার আগে তাঁরা দক্ষিণবঙ্গের যশোর জেলার অধিবাসী ছিলেন।

দেওয়ান হাসন রাজা মরমী সাধনা বাংলাদেশে দর্শনচেতনার সাথে সঙ্গীতের এক অসামান্য সংযোগ ঘটিয়েছেন বাউল ও মরমী সাধনায়!দুদ্দু শাহ্‌, পাঞ্জ শাহ্‌,পাগলা কানাই, রাধারমণ,আরকুম শাহ্‌,জালাল খাঁ এবং আরো অনেকে।
তবে দর্শনচেতনার নিরিখে লালনের পর যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নামটি আসে তার অন্যতম হলেন দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী ।

দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী দেখতে সুদর্শন ব্যক্তি ছিলেন! প্রথম যৌবনে তিনি ছিলেন ভোগবিলাসী এবং সৌখিন।
রমণী সম্ভোগে তিনি ছিলেন অক্লান্ত।
প্রতিবছর বিশেষ করে বর্ষাকালে নৃত্য-গীতের ব্যবস্থাসহ তিনি নৌকায় চলে যেতেন এবং বেশ কিছুকাল ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিজেকে নিমজ্জিত করে দিতেন। এর মধ্যেই বিশেষ বিশেষ মুহুর্তে তিনি প্রচুর গান রচনা করেছেন, নৃত্য এবং বাদ্যযন্ত্রসহ এসব গান গাওয়া হত।
আশ্চর্যের বিষয় হল, এসব গানে জীবনের অনিত্যতা সম্পর্কে, ভোগ-বিলাসের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী প্রকৃতি প্রেমিও ছিলেন তিনি পশু পাখি লালন পালন করতেন এবং ভালোবাসতেন। কুড়া পাখি ছিলো তার প্রিয় পাখি। তিনি ঘোড়া পুষতেন তাঁর প্রিয় দুটি ঘোড়া ছিলো একটির নাম ছিল জং বাহাদুর অন্যটির নাম চান্দমুশকি।

প্রথম দিকে দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী তিনি প্রজাদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে লাগলেন,তিনি তার জমিদারী বেশ দাপটের সঙ্গে চালাতে লাগলেন। দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী এক আধ্যাত্নিক স্বপ্ন-দর্শনের দ্ধারা মূলত হাসন রাজা চৌধুরীর জীবন দর্শন আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছিলো! এই আধ্যাত্মিক স্বপ্ন দর্শনের মাহার্থ দেওয়ান হাসন রাজার মনের দুয়ার দিনকে দিন খুলে যেতে লাগলো! স্বপ্ন তাৎপর্য অনুধাবনের দ্ধারা দেওয়ান হাসন রাজার চরিত্রে এলো এক সৌম্যভাব। তিনি বিলাস প্রিয় জীবন ছেড়ে দিলেন! তিনি তার ভুল ত্রুটিগুলো শুধরাতে শুরু করলেন!জমকালো পোশাক পড়া ছেড়ে দিলেন! শুধু বর্হিজগত নয়, তার অন্তর্জগতেও এলো বিরাট পরিবর্তন। ইহজগৎ বিষয়-আশয়ের প্রতি তিনি নিরাসক্ত হয়ে উঠলেন। দেওয়ান হাসন রাজার মনের মধ্যে এলো এক ধরনের উদাসীনতার সাথে এক ধরনের বৈরাগ্য।

তিনি তার জমিদারি আওতাধীন প্রজা ও সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নেয়া হয়ে উঠলো তাঁর প্রতিদিনের নৈমিত্তিক কাজ।

এসকল কাজের উপর ছিল গান রচনা,তিনি স্রষ্টা ও এবং স্রষ্টার সৃষ্টির প্রেমে মগ্ন হতে লাগলেন!তাঁর সকল ধ্যান ধারণা গান হয়ে প্রকাশ পেতে লাগলো।
এই পরিবর্তনে সময় গানের কলিতে লিখেছেন এবং গেয়েছেন এইভাবেঃ“লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ী ভালা নায় আমার,কি ঘর বানাইমু আমি, শূন্যের-ই মাঝার,ভালা করি ঘর বানাইয়া, কয় দিন থাকমু আর,আয়ন দিয়া চাইয়া দেখি,পাকনা চুল আমার”
এভাবে প্রকাশ পেতে লাগলো তাঁর বৈরাগ্যভাব। হাসন রাজা সম্পূর্ণ বদলে গেলেন!কেবল মানব সেবা নয়,জীব সেবাতেও তিনি নিজেকে নিয়োজিত করলেন।

দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী পরিণত বয়সে তিনি বিষয় সম্পত্তি বিলিবন্টন করে দরবেশ-জীবন যাপন করেন। দেওয়ান হাসান রাজার উদ্যোগে হাসন এম.ই. হাই স্কুল,পাশাপাশি অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্টান স্থাপিত হয়। দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরীর চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায় মূলত তার গানে কবিতায় সূরে । তিনি কতো গান রচনা করেছেন তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। ‘হাছন উদাস’ গ্রন্থে তার ২০৬ টি গান সংকলিত হয়েছে।
এর বাইরে আর কিছু গান ‘হাসন রাজার তিনপুরুষ’ এবং ‘আল ইসলাহ্‌’ সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

শোনা যায়, হাসন রাজার উত্তরপুরুষের কাছে তাঁর গানের পান্ডুলিপি আছে। অনুমান করা চলে, তাঁর অনেক গান এখনো সিলেট-সুনামগঞ্জের লোকের মুখে মুখে আছে, কালের নিয়মে বেশ কিছু গান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পদ্যছন্দে রচিত হাসনের অপর গ্রন্থ ‘সৌখিন বাহার’-এর আলোচ্য বিষয়-‘স্ত্রীলোক, ঘোড়া ও কুড়া পাখির আকৃতি দেখে প্রকৃতি বিচার(লোকসাহিত্য পত্রিকা, জুলাই-ডিসেম্বর ১৯৭৯। সৈয়দ মুর্তাজা আলী,’মরমী কবি হাসন রাজা’)।

‘হাছন বাহার’ নামে তাঁর আর একটি গ্রন্থ কিছুকাল পূর্বে আবিস্কৃত হয়েছে।
হাসন রাজার আর কিছু হিন্দী গানেরও সন্ধান পাওয়া যায়। মরমী গানের ছক-বাঁধা বিষয় ধারাকে অনুসরণ করেই হাসনের গান রচিত।
ঈশ্বানুরক্তি,জগৎ জীবনের অনিত্যতা ও প্রমোদমত্ত মানুষের সাধন-ভজনে অক্ষমতার খেদোক্তিই তাঁর গানে প্রধানত প্রতিফলিত হয়েছে।
কোথাও নিজেকে দীনহীন বিবেচনা করেছেন! আবার তিনি যে অদৃশ্য নিয়ন্ত্রকের হাতে বাঁধা সে কথাও ব্যক্ত হয়েছে! স্পর্শের অনুভবের যোগ্য কেবল, তাঁর সাক্ষাৎ মেলে শুধুমাত্র তৃতীয় নয়নেঃ
“আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে, আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে।
আরে দিলের চক্ষে চাহিয়া দেখ বন্ধুয়ার স্বরূপ রে।।”

কিন্তু এই বন্ধুর সনে হাসন রাজার প্রেমের আশা বাঁধা পেত স্বজন ও সংসার। হাসনের খোদঃ
এদিকে নশ্বর জীবনের সীমাবদ্ব আয়ু শেষ হয়ে আসে- তবু ‘মরণ কথা স্মরণ হইল না, হাসন রাজা তোর’। পার্থিব সম্পদ, আকাঙ্ক্ষা আর সম্ভোগের মোহ হাসন রাজাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আবার নিজেই নিজের ভুল বুঝতে পারেনঃ
“যমের দূতে আসিয়া তোমার হাতে দিবে দড়ি।
টানিয়া টানিয়া লইয়া যাবে যমেরও পুরিরে।।
সে সময় কোথায় রইব (তোমার) সুন্দর সুন্দর স্ত্রী।
কোথায় রইব রামপাশা কোথায় লক্ষণছিরি রে।।
করবায় নিরে হাসন রাজা রামপাশায় জমিদারী।
করবায় নিরে কাপনা নদীর তীরে ঘুরাঘুরি রে।।
(আর) যাইবায় নিরে হাসন রাজা রাজাগঞ্জ দিয়া।
করবায় নিরে হাসন রাজা দেশে দেশে বিয়া রে।।
ছাড় ছাড় হাসন রাজা এ ভবের আশা।
প্রাণ বন্ধের চরণ তলে কর গিয়া বাসা রে।।    ”
এই আত্নবিশ্লষণ ও আত্নোপলব্ধির ভেতর দিয়েই হাসন রাজা মরমী-সাধন-লোকের সন্ধান পেয়েছিলেন।

মূলত মরমী সাধনার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে জাত-ধর্ম আর ভেদবুদ্ধির উপরে উঠা,সকল ধর্মের নির্যাস, সকল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যই আধ্যাত্ন-উপলব্ধির ভেতর দিয়ে সাধক আপন করে নেন।
তাঁর অনুভবে ধর্মের এক অভিন্ন রূপ ধরা পরে- সম্প্রদায় ধর্মের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সর্বমানবিক ধর্মীয় চেতনার এক লোকায়ত ঐক্যসূত্র রচনা করে।

হাসন রাজার সঙ্গীত, সাধনা ও দর্শনে এই চেতনার প্রতিফলন আছে। হিন্দু ও মুসলিম ঐতিহ্যের যুগল পরিচয় তাঁর গানে পাওয়া যায়। অবশ্য মনে রাখা প্রয়োজন, কয়েক পুরুষ পূর্বে হিন্দু ঐতিহ্যের ধারা হাসন রাজার রক্তে প্রবহমান ছিল। হাসন রাজার মরমী লোকে সাম্প্রদায়িক বিভেদের ঠাঁই ছিলোনা।
অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ভেবে হাসন বলেনঃ
“ আমি যাইমুরে যাইমু, আল্লার সঙ্গে,
হাসন রাজায় আল্লা বিনে কিছু নাহি মাঙ্গে।    ”
আবার পাশাপাশি তাঁর কন্ঠে ধ্বনিত হয়ঃ
“ আমার হৃদয়েতে শ্রীহরি,
আমি কি তোর যমকে ভয় করি।
শত যমকে তেড়ে দিব, সহায় শিবশঙ্করী।। ”
হাসনের হৃদয় কান্নায় আপ্লুত হয় ‘কি হইব মোর হাসরের দিন রে ভাই মমিন’,- আবার পাশাপাশি তাঁর ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয় এভাবেঃ”আমি মরিয়া যদি পাই শ্যামের রাঙ্গা চরণ’ কিংবা ‘দয়াল কানাই, দয়াল কানাই রে, পার করিয়া দেও কাঙ্গালীরে”
আবার তিনি বলেন “হিন্দুয়ে বলে তোমায় রাধা,আমি বলি খোদা” স্পষ্টই হাসনের সাধনা ও সঙ্গীতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পুরাণ ও ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটেছে। এ বিষয়ে তিনি ছিলেন লালন ও অন্যান্য মরমী সাধকের সমান ধর্মা।
দেওয়ান হাসন রাজা কোন পন্থার সাধক ছিলেন তা স্পষ্ট জানা যায় না। তাঁর পদাবলীতে কোন গুরুর নামোল্লেখ নেই। কেউ কেউ বলেন তিনি চিশ্‌তিয়া তরিকার সাধক ছিলেন। সূফী তত্ত্বের প্রেরণা ও প্রভাব তাঁর সঙ্গীতে ও দর্শনে থাকলেও, তিনি পুরোপুরি এই মতের সাধক হয়তো ছিলেন না। নিজেকে তিনি ‘বাউলা’ বা ‘বাউল’ বলে কখনো কখনো উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বাউলদের সমগোত্রীয় হলেও নিজে আনুষ্ঠানিক বাউল ছিলেন না। সূফী মতের সঙ্গে দেশীয় লোকায়ত মরমী ধারা ও নিজস্ব চিন্তা-দর্শনের সমন্বয়ে তাঁর সাধনার পথ নির্মিত হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। তাঁর সঙ্গীত রচনার পশ্চাতে একটি সাধন-দর্শনের প্রভাব বলা যায়।

রবীন্দ্রনাথের চোখে হাসন রাজা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯ ডিসেম্বর ১৯২৫ Indian Philosophical Congress-এর প্রথম অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতির অভিভাষণে তিনি প্রসঙ্গক্রমে হাসন রাজার দুটি গানের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করে তাঁর দর্শন চিন্তার পরিচয় দেন। ভাষণটি ‘Modern Review’ ( January 1926 ) পত্রিকায় ‘The philosophy of Our People’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এর অনুবাদ প্রকাশিত হয় ‘প্রবাসী’ ( মাঘ ১৩২২ ) পত্রিকায়। ভাষণে হাসন রাজা সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক অংশ এখানে উদ্ধৃত হলোঃ
“পূর্ববঙ্গের এক গ্রাম্য কবির [হাসন রাজা] গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধ সূত্রেই বিশ্ব সত্য।
তিনি গাহিলেন-“মম আঁখি হইতে পয়দা আসমান জমিন শরীরে করিল পয়দা শক্ত আর নরম
আর পয়দা করিয়াছে ঠান্ডা আর গরম
নাকে পয়দা করিয়াছে খুসবয় বদবয়। ”
এই সাধক কবি দেখিতেছেন যে, শাশ্বত পুরুষ তাঁহারই ভিতর হইতে বাহির হইয়া তাঁহার নয়নপথে আবির্ভূত হইলেন। বৈদিক ঋষিও এমনইভাবে বলিয়াছেন যে, যে পুরুষ তাঁহার মধ্যে তিনিই আধিত্যমন্ডলে অধিষ্ঠিত।

“ রূপ দেখিলাম রে নয়নে, আপনার রূপ দেখিলাম রে।
আমার মাঝত বাহির হইয়া দেখা দিল আমারে।।    ”
১৯৩০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হিবার্ট লেকচারে’ রবীন্দ্রনাথ ‘The Religion of Man’ নামে যে বক্তৃতা দেন তাতেও তিনি হাসন রাজার দর্শন ও সঙ্গীতের উল্লেখ করেন।

রচনাবলী :
হাসন উদাস- দেওয়ান হাছন রাজা সংকলিত
সৌখিন বাহার
হাছন বাহার।

তথ্য সমাহারকারী লেখকঃ
শওকত আখঞ্জী
উন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট।

সুত্র : বিভিন্ন ওয়েভ সাইট ও ওইকপিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৫ বার

[hupso]
Shares