সর্বশেষ

» ধর্ষণের শাস্তি হোক মৃত্যুদন্ড ।। আমার সিলেট বিডি ডটকম

প্রকাশিত: 06. October. 2020 | Tuesday

ধর্ষণের শাস্তি হোক মৃত্যুদন্ড :

মানব সমাজে অহরহ অন্যায়-অপকর্ম ঘটেই চলেছে। অন্যায় অত্যাচার ছোট করে দেখার ফলেই সমাজে এক সময় মহামারি আকারে ধারন করে এসব অপকর্ম। চলমান দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য আর জঘন্যতম অপরাধ হচ্ছে ধর্ষণ। মানুষের বিবেক বিকৃতির কারনে সমাজে আজ শিশু থেকে শুরু করে কিশোরী, তরুণী; এমনকি মধ্যবয়সী নারীরাও ধর্ষকের হাত থেকে নিরাপদ নয়।

প্রতিনিয়ত ঘরে-বাইরে, বাসে, রাস্তায়, স্কুলে, কলেজে, ছাত্রাবাসে, মাদ্রাসায় ও কর্মস্থলে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ ঘটেই চলেছে। এর জন্য কে বা কারা দায়ি? প্রতিকারের উপায় বা কি?

আমাদের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। একজন নারীর সম্পূর্ণ আস্তা আর বিশ্বাস কেবল একজন পুরুষের উপর। আর একজন নারী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা আশা করে একজন পুরুষের কাছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় নারী আজ ধর্ষিত হচ্ছে সেই আত্ববিশ্বাসের জায়গায়।

একজন নারী যখন ধর্ষিত হয় তখন সমস্ত দোষ ওই নারীর ওপরই বর্তায়। লোকমুখে তাকে অনেক কথা শুনতে হয়। কেউ বলে মেয়ে মানুষ একা বের হলো কেন, বোরকা পরলনা কেন, নানা ধরনের কথা বলে থাকেন। কিন্তু এখানে ধর্ষনকারীদের দুষ কি আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি আধু? তারা কেন এমন জঘন্য কাজ করবে, তাদের কি মা, বোন নাই?

এছাড়াও ধর্ষিত কেউ আইনের সাহায্য চাইলে, তাকে নানা ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। কোথায়? কখন? কেন ধর্ষণ করা হল, এমন সব অবান্তর প্রশ্ন করে দ্বিতীয় দফায় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করা হয়।

শুধু তা নয়, ধর্ষণে শিকার নারী, ব্যাক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ সবার কাছে বোঝা হয়ে যায়। কেউ তাকে ভালো চোখে দেখেনা। এতে ধর্ষণের শিকার অনেকেই লজ্জায়, অপমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।

অনেক নারীর ধর্ষনের শিকার হয়েও আত্বসম্মান রক্ষার ভয়ে মুখ খোলতে নারাজ। এতে অনেক ধর্ষনকারী বুক পুলিয়ে সমাজ চলাফেরা করে। এতে অনেকেই পার পেয়ে যায়।

সরকার নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অধিকার নিয়ে প্রায়ই আশা জাগানিয়া কথাবার্তা বলেন। এমন আশানুরূপ কথার উপর ভিত্তি করে সংসদ ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, সংসদে স্পিকার নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী অথচ আমাদের এই সমাজে নারীগন বিভিন্ন ভাবে ধর্ষিত হচ্ছে, বিপর্যস্ত হচ্ছে, এতে কি সমস্ত নারীদের উপর প্রভাব পরেনি? তাহলে কেন ধর্ষনকারীদের কঠিন বিচার করা হয়না? কেন তাদের অনেকেই জামিনে পার পেয়ে যায়? বিচার বিভাগের এমন অবস্থা হলে অন্যায় অপরাধ আরো বাড়বে।

অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিচার বিভাগের দিকে থাকালে দেখা যায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। যেমন চীনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সৌদি আরবে পিটিয়ে মারা ও শিরশ্ছেদ, উত্তর কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড, আফগানিস্তানে মাথায় গুলি করা, ইরানে ফাঁসি দেয়া।

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ এর ৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করে তাহলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হবে।

আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ নারী বা শিশুকে ধর্ষণের পর ভিকটিম মারা যায় তাহলে ধর্ষণকারীর মৃত্যুদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড হবে। বাস্তবতা বলে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে না আছে আইন, না আছে আইনের প্রয়োগ। আইনের প্রয়োগ যদি থাকত তাহলে এদেশে ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হতো না।

ধর্ষণকারীদের বিরোদ্ধে কঠোর কন্ঠে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রত্যেক মা বোনকে সম্মান দেখিয়ে রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে হবে। যে কেউ এমন জঘন্য, ঘৃনিত কাজ করলে বাঁধার সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রূত প্রশাসনকে অবগত করতে হবে। সর্বদা প্রত্যেক প্রত্যেকের জায়গা হতে সোচ্চার হতে হবে। চোখ কান খোলা রাখতে যেন এমন অশ্লিল অপরাধ সমাজে লোক চোখে না ঘটে।

এখনেই, এই মহূর্তে ধর্ষণ আইন সংশোধন করা হোক এবং সেই সঙ্গে দ্রুত বিচারের আইনে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হোক। যাতে করে কেউ জামিনে ছাড়া না পায়। শুধু আইন করলে হবেনা সে সাথে আইনের প্রয়োগ অর্থাৎ বাস্তবায়ন করতে হবে।

লেখক
এম. গোলাম রাব্বানী
উন্নয়নকর্মী

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৪ বার

[hupso]
Shares